Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

৬০ শতাংশই দুর্বোধ্য, প্রেসক্রিপশন পড়তে পারছেন না স্বয়ং ডাক্তাররাই! লক্ষাধিক প্রেসক্রিপশন অডিটের পর মাথায় হাত স্বাস্থ্যভবনের

স্ত্রীকে মেডিকেল কলেজে দেখিয়ে আউটডোরের ওষুধ নেওয়ার লাইনে এক ঘণ্টা ঘাম ঝরিয়েও বড় ডাক্তারবাবুর প্রেসক্রিপশনের দুটো ওষুধ পেলেন না কালিয়াচকের বিবেক পাল

৬০ শতাংশই দুর্বোধ্য, প্রেসক্রিপশন  পড়তে পারছেন না স্বয়ং ডাক্তাররাই! লক্ষাধিক প্রেসক্রিপশন অডিটের পর মাথায় হাত স্বাস্থ্যভবনের
  • ১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: স্ত্রীকে মেডিকেল কলেজে দেখিয়ে আউটডোরের ওষুধ নেওয়ার লাইনে এক ঘণ্টা ঘাম ঝরিয়েও বড় ডাক্তারবাবুর প্রেসক্রিপশনের দুটো ওষুধ পেলেন না কালিয়াচকের বিবেক পাল। মালদহ থেকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এসেছেন। আগের রাতে ছিলেন বউবাজারে আত্মীয়ের বাড়িতে। সকাল সকাল লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন। সবই ঠিক আছে! কিন্তু, মাইগ্রেনের সমস্যায় কাতর স্ত্রীর প্রেসক্রিপশনের বাকি দুটো ওষুধের কী হবে? ফার্মাসি কাউন্টারের কর্মী বললেন, ‘ডাক্তারবাবুকে দিয়ে আরেকবার পরিষ্কার করে লিখিয়ে আনুন।’ মেডিকেলের ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানেও বলল এক কথা—‘যেখানে বুঝতেই পারছি না, ওষুধ কী দেব?’ উলটোদিকের ওষুধের দোকানের রসিক কর্মী বলেই ফেললেন, ‘ইংরেজি, বাংলা বলে তো মনে হচ্ছে না! মেডিকেলে কী এখন অন্য কোনো ভাষায় প্রেসক্রিপশন হচ্ছে!’ শেষে নিজের কপালকে দুষছিলেন বিবেকবাবু। 

Advertisement

দোষ কি তাহলে রোগীদের? বিবেকবাবুদের? স্বাস্থ্যভবন বলছে, একেবারেই নয়। মাসতিনেক হল রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রেসক্রিপশন অডিট। মেডিকেল কলেজ থেকে একেবারে গ্রামীণ হাসপাতাল পর্যন্ত। প্রত্যেক বিভাগ থেকে মাসে ৩০টি করে প্রেসক্রিপশন জমা পড়ছে অডিটের জন্য। হাতের লেখা, চিকিৎসকের সই, দিন ও সময় (কখন রোগী দেখা হচ্ছে), অ্যান্টিবায়োটিকের সংখ্যা, প্রবিশনাল ডায়াগনসিস (সম্ভাব্য অসুখ) ইত্যাদি সবকিছু বিচার করা হবে। প্রেসক্রিপশন অডিট কমিটির চিকিৎসকরা (অন্য হাসপাতালে কর্মরত) এসে যাচাই করে যাচ্ছেন সেগুলি। আর মেডিকেল কলেজগুলির ক্ষেত্রে এই অডিটের কাজ করছে ফার্মাকোলজি বিভাগ। তাতেই উঠে এসেছে বিস্ফোরক সব তথ্য। 
গোটা প্রক্রিয়ায় যুক্ত এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, ‘ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশন পড়তে পারছেন না প্রেসক্রিপশন অডিটে যুক্ত চিকিৎসকরাই। ৬০ শতাংশ প্রেসক্রিপশনে ডাক্তারদের হাতের লেখা দুর্বোধ্য। রোগীরা কী পড়বেন! ওষুধের দোকানের অভিজ্ঞ ফার্মাসিস্ট বা কম্পাউন্ডারের কাছেও সে লেখা সহজবোধ্য নয়।’ 
লক্ষাধিক প্রেসক্রিপশন অডিট করে চিকিৎসকরা দেখছেন, ৮০ শতাংশ প্রেসক্রিপশনেই লেখা হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। প্রেসক্রিপশন শুধুমাত্র একটি নথি বা রোগীর ইতিহাস নয়, এটি একটি মেডিকো লিগাল ডকুমেন্টও। এখানে যিনি প্রেসক্রিপশন লিখছেন, তাঁর পূর্ণ সাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, অডিটের শুরুতে মাত্র ২০ শতাংশ প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসকদের পুরো সই থাকত। সতর্ক করবার পর কিছুটা উন্নতি হয়। এখন প্রায় অর্ধেক প্রেসক্রিপশনেই থাকছে ডাক্তারের পুরো সই। ওষুধের জেনেরিক নাম লেখার ক্ষেত্রেও আগের থেকে উন্নতি হয়েছে। আগে ৯০ শতাংশ প্রেসক্রিপশনেই থাকত ওষুধের কোম্পানির নাম বা ‘ব্র্যান্ড নেম’। এখন তা কমে হয়েছে ৪০ শতাংশ। কিন্তু হাতের লেখা যে তিমিরে ছিল, আজও আছে সেই তিমিরেই। সরকারি ডাক্তারদের একাংশের পাল্টা কটাক্ষ, ‘রোগী পিছু সময় পাই মোটে ২ মিনিট। তাতে ছবির মতো প্রেসক্রিপশন লেখা সম্ভব?’  

সম্পর্কিত সংবাদ