লখনউ ও ভুবনেশ্বর: নিম্নচাপের ফলে ৬০ ঘণ্টা লাগাতার বৃষ্টি। সেই অতি বৃষ্টির জেরে কার্যত বিপর্যস্ত উত্তরপ্রদেশ। জলমগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। এখনও পর্যন্ত প্রকৃতির তাণ্ডবের বলি হয়েছেন কমপক্ষে ৫৬ জন। মৃতেরা সীতাপুর, লখিমপুর খেরি, বলরামপুর, বাহরাইচ, অযোধ্যা ও গোরক্ষপুরের বাসিন্দা। জখম আরও ৪৬ জন। বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে হড়পা বানের সতর্কতা (মডারেট) জারি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি জেলায়। বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার জন্য জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, শনিবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় স্বাভাবিক থেকে অনেকটাই বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে বেশকিছু অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় ফতেগড়ে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বান্দা, হরদোই, হামিরপুর ও কনৌজে সংখ্যাটা যথাক্রমে ২২৭.৬, ২১৪, ২১০ ও ২০৪ মিলিমিটার। লখনউয়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ১২৬ মিলিমিটার। সূত্রের খবর, ফারুখাবাদে স্বাভাবিকের থেকে ২০০ গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। হরদোইয়েরও প্রায় একই অবস্থা। সেখানেও ১৩০ গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রচুর ফসল। শতাধিক পশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। আজ পর্যন্ত বেশকিছু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে হাওয়া অফিস।
লাগাতার ভারী বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে একাধিক অঞ্চল। যানজটের জেরে জেরবার জনজীবন। প্রমোদ কুমার নামে হরদোইয়ের এক কৃষক বলেন, ‘এভাবে বৃষ্টি আর হাওয়া হতে থাকলে আরও ফসল নষ্ট হবে।’ জলমগ্ন গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে প্রশাসনকে একহাত নিয়েছেন সপা প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর তোপ, ‘বিজেপির দুর্নীতির নদী গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। যারা নাম পরিবর্তন করে, তাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ। নতুন নামকরণ করা হোক গঙ্গা এক্সপ্রেস ওয়াটারওয়ে।’
বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ওড়িশাও। আশঙ্কা থাকলেও শেষপর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় ঘনীভূত হয়নি ওড়িশা উপকূলে। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে শনিবার নীচু এলাকা থেকে ৭০ হাজার মানুষকে ৩৯৫টি অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে সরানো হয়েছে। রবিবার সকালে আকাশপথে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সুরেশ পূজারী এবং বিশেষ ত্রাণ কমিশনার। আকাশপথে পরিদর্শনের পর তিনি কোরাপুট জেলার কোটপাড় ব্লকের চান্দিলি পঞ্চায়েতে বন্যাদুর্গত এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ ও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।