নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের প্রধান সচিবালয় ‘নবান্ন’ অবস্থিত হাওড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী সহ বহু ভিভিআইপির নিত্য আসা-যাওয়া। আসছেন-যাচ্ছেন বিদেশি প্রতিনিধিরাও। তাঁদের সুরক্ষার প্রশ্ন তো আছেই। সেই সঙ্গে রয়েছে হাওড়াবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে হাওড়া শহরে বসতে চলেছে অটোমেটিক নাম্বার প্লেট রেকগনিশন (এএনপিআর) ক্যামেরা। উন্নত প্রযুক্তির এই ক্যামেরা কোথায় কোথায় বসানো হবে, তাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বলে খবর রাজ্য পুলিশ সূত্রে। এর ফলে গাড়ি ব্যবহার করে কোনও অপরাধমূলক ঘটনা ঘটানো হলে তার কিনারা করা অনেকটা সহজ হবে। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে কোনও গাড়ি চম্পট দিতে চাইলে সেটি শনাক্ত করা যাবে। তাছাড়া, এএনপিআর ক্যামেরায় অভিযুক্ত গাড়িকে শনাক্ত করা গেলে সংশ্লিষ্ট ফুটেজ আদালতে পেশ করে মামলাকে আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে পারবেন তদন্তকারী পুলিশকর্তারা।
শতাব্দীপ্রাচীন হাওড়া শহরে গড়ে উঠেছে একাধিক বহুতল আবাসন। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও ব্যস্ততার সঙ্গে পাল্লা দিতে মেট্রো পরিষেবায় যুক্ত হয়েছে গঙ্গার পশ্চিমপাড়ের এই শহর। সেই সঙ্গে শহর লাগোয়া হাইওয়েতে বেড়ে চলেছে বিলাসবহুল হোটেল ও পানশালার সংখ্যা। সব মিলিয়ে বিগত কয়েকবছরে হাওড়ার হালচাল বদলে গিয়েছে অনেকটাই। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসছে গাড়ি নিয়ে। সেই ভিড়ে মিশে থাকছে অপরাধ চক্রের লোকজনও। তাছাড়া, দ্রুত গতির কারণে পথ দুর্ঘটনা ঘটছে মাঝেমধ্যেই। গাড়িতে করে হরিয়ানা থেকে এসে সাঁকরাইল এলাকায় এটিএম লুট করেছে দুষ্কৃতীরা—এমন ঘটনাও রয়েছে। গাড়ি ব্যবহার করে খুন বা অন্যান্য অপরাধ চলছে। এএনপিআরের মতো আধুনিক ও উচ্চপ্রযুক্তি সম্পন্ন ক্যামেরা না থাকায় মামলাগুলির কিনারা করতে কালঘাম ছুটছে পুলিশের। কারণ, এখন হাওড়া সিটি পুলিশের যেসব ক্যামেরা রয়েছে, সেগুলি দ্রুত গতিতে বেরিয়ে যাওয়া গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে না। বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তোলার ক্ষমতাও নেই। ‘নাইট ভিশন’ থাকলেও তা অত্যন্ত দুর্বল। তাই কোনও তদেন্তে রাতের ফুটেজ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুলিশকে। তাই গোটা শহরকে এএনপিআর ক্যামেরায় মুড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সূত্রের খবর, এমপি ‘ল্যাড’-এর ৫০ লক্ষ টাকায় আপাতত ৬০টি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নবান্ন সংলগ্ন মন্দিরতলা, হাওড়া স্টেশন এলাকা, হাওড়া ব্রিজে ওঠা-নামার রাস্তা, ব্যাতাইতলা, ফোরশোর রোড, কাজিপাড়া, শিবপুর, সালকিয়া চৌরাস্তা, বামনগাছি, বেলুড় সহ দ্বিতীয় হুগলি ব্রিজে ওঠার রাস্তাগুলিতেও উন্নত প্রযুক্তির এই ক্যামেরা বসানো হবে। রাজ্য পুলিশের এক কর্তার কথায়, ‘হাওড়া শহরে ঢোকা-বেরনোর জন্য যেসব রাস্তায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে এই ক্যামেরা বসবে। উন্নত প্রযুক্তির এই ক্যামেরা গাড়ির নম্বর প্লেটের ছবি তুলবে এবং অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রেকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই প্লেটের সংখ্যা ও অক্ষরগুলি শনাক্ত করতে পারবে। সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে অনায়াসে অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব।’