পাটনা: পরনে লাল টিশার্ট। পাট করে আঁচড়ানো চুল। ৬ বছর বয়সেই আন্দোলনে নেমে শিরোনামে উঠে এসেছিল পাটনার আদিত্য কুমার। ২৫ আগস্ট বিক্ষোভস্থল থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারও করেছিল। যদিও প্রশাসনিকভাবে জানানো হয়েছিল, নিরাপত্তার স্বার্থেই থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল খুদেকে। কিন্তু পুলিশের সেই দ্বিচারিতা ফাঁস করে দিয়েছেন আদিত্যর মা-বাবা। একটি সংবাদমাধ্যমকে তাঁরা জানিয়েছেন, ৬ ঘণ্টা ধরে খুদে ও তার বাবা-মাকে আটকে রাখা হয়েছিল থানাতে। সেখানে পুলিশি নির্যাতনের স্বীকারও হন তাঁরা। তাঁদের লাথি মারা হয়। লাঠি দিয়েও পেটানো হয়েছিল।
আদিত্যর বাবা রঞ্জিত কুমার (৩০) এবং মা মুন্নি কুমারী বলেছেন, থানায় তাঁদের সঙ্গে ক্রিমিনালের মতো আচরণ করা হয়েছিল। রঞ্জিত বলেন, ‘পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আমি আদিত্যকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করি। হঠাৎ করেই পুলিশ এসে বলে, আমার স্ত্রী আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি ও আদিত্য পুলিশের সঙ্গে যাই। আমাদের বলা হয়েছিল বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। পরিবর্তে আমাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।’ আদিত্যর বাবা দাবি করেছেন, মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুলিশি নির্যাতনের কথা না বলার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি আদিত্য ভবিষ্যতে কোনো আন্দোলনে যোগ দেবে না, এই বয়ানে মুচলেকাও লিখে দিতে হয়েছিল পুলিশকে।
যদিও যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কোতোয়ালি থানার এসএইচও অজয় কুমার বলেছেন, ‘এই সব অভিযোগের সত্যতা নেই। থানায় কোনো নির্যাতন চালানো হয়নি।’ আদিত্যর মায়ের শরীরে চোটের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘হয়তো আন্দোলনস্থলেই আহত হয়েছেন ওই মহিলা।’ এমনকি আদিত্যকে চকোলেট বিস্কুট দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছে পুলিশ।