নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিশু হাসপাতাল থেকে অপহরণের ন’ঘণ্টার মধ্যে ছয় মাস বয়সের এক শিশুকে উদ্ধার করল ফুলবাগান থানা। সোমবার সন্ধ্যায় ভাঙড়ের নিবুন্ধিয়া গ্রাম থেকে ওই শিশুকে পাওয়া যায়। গ্রেফতার করা হয়েছে শ্যামলী মণ্ডল নামে অভিযুক্তকে। ওই মহিলা শিশু পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান তদন্তকারীদের।
জানা গিয়েছে, ভাঙড়ের ছেলেগোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মণিরুল মোল্লা ও মঞ্জিলা বিবির একমাত্র সন্তান অনেকদিন ধরেই জ্বর, সর্দি কাশিতে ভুগছিল। ছ’মাসের মাহিরকে নিয়ে মঞ্জিলা বিবি এদিন সকালে বাড়ি থেকে বের হন। উত্তর কাশীপুর থানার কদমতলা বাস স্ট্যান্ড থেকে কেবি ২২ রুটের একটি বেসরকারি বাসে ওঠেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় শ্যামলী মণ্ডল নামে ওই মহিলার। কথায় কথায় ওই মহিলা জানায়, সেও ওই গ্রামের বাসিন্দা। বাসে সিট না থাকায় দাঁড়িয়েছিলেন মঞ্জিলা বিবি। সিটে বসে থাকা শ্যামলী নিজে থেকেই মঞ্জিলার বাচ্চাকে কোলে নেয়। ১০টা নাগাদ করুণাময়ী বাস স্ট্যান্ডে ছেলেকে নিয়ে নামে মা। সেখান থেকে তিনি ও শ্যামলী একটি অটো রিকশ ধরে বিসি রায় শিশু হাসপাতালে আসেন বেলা ১০টা কুড়ি মিনিট নাগাদ। লাইন দিয়ে টিকিট কাটার পর আউটডোরে গিয়ে ডাক্তার দেখান। তখনও সঙ্গে ছিল শ্যামলী। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষার পর কিছু মেডিসিন দেন। ছেলে কোলে বাইরে বের হন মঞ্জিলা। ওষুধটি সঙ্গে সঙ্গে খাওয়াতে বলেছিলেন ডাক্তার। শ্যামলী তখন মঞ্জিলাকে বলে বাচ্চাকে সে রাখছে। তার কাছে ছ’মাসের শিশুটিকে রেখে ওষুধ আনতে বাইরে যান মঞ্জিলা। মিনিট কুড়ি পর ফিরে এসে তিনি দেখেন বাচ্চা সহ মহিলা উধাও। তিনি হাসপাতালের চারদিক খোঁজাখুঁজি করেও বাচ্চাকে পাননি। ফুলবাগান থানায় মহিলা অভিযোগ করলে পুলিশ শিশু অপহরণের কেস রুজু করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ ওই হাসপাতালে এসে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। যে জায়গায় মহিলা দাঁড়িয়েছিল, সে ছবি ধরা পড়ে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওই মহিলাও উত্তর কাশীপুরের কদমতলা থেকে বাসে উঠেছিল। তা থেকে অনুমান করা হয়, সে ওই এলাকার বাসিন্দা হতে পারে। মহিলার ছবি কলকাতা পুলিশের সমস্ত ডিভিশনের থানায় দেওয়া হয়। ছবি নিয়ে উত্তর কাশীপুর থানার অফিসাররা যোগাযোগ করেন একাধিক পঞ্চায়েতের সঙ্গে। সেখান থেকে এক মহিলাকে চিহ্নিত করা হয়। সিসি ক্যামেরার সঙ্গে ওই ছবি মেলানো হয়। দুটি ছবি মিলতেই তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন এই মহিলাই শ্যামলী। ওই গ্রামে তার বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। দেখা যায়, বাচ্চাটি সেখানে রয়েছে। উদ্ধার করা হয় ছ’ মাসের শিশুকে। গ্রেফতার করা হয় শ্যামলীকে। ধৃত জানিয়েছে, বাচ্চা অপহরণ করে বিক্রি তার উদ্দেশ্য ছিল। এর আগেও সে একই কাজ করেছে।