সংবাদদাতা, চাঁচল: বেপরোয়া ট্রাক্টরের চাকা খুলে ঢুকে গেল দুয়ারে রেশন শিবিরে। ঘটনায় রেশন ডিলার সহ ছ’জন জখম হয়েছেন। বুধবার চাঁচল থানার ভগবতীপুর গ্রামে এই ঘটনার পর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয় চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সেখানে এক বালক অজয় মাঝির অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ডিলার জয়ন্ত কুণ্ডু রেশন সামগ্রী নিয়ে শিবির করছিলেন ভগবতীপুরে। সেই সময় দ্রুতগতিতে যাওয়া একটি ট্রাক্টরের চাকা খুলে শিবিরে ঢুকে গেলে সিমেন্টের খুঁটি ভেঙে যায়। পাঁচজন আহত হয়েছেন। মাথায় চোট লাগে রেশন ডিলারের।
স্থানীয় বাসিন্দা সন্তোষ দাসের অভিযোগ, এলাকায় দিনের পর দিন মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ এই সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে ট্রাক্টর চলাচল করছে প্রায় একমাস ধরে। চালকদের আস্তে চালানোর জন্য বলতে গেলে তারা তর্ক করে। আগেও মাটি নিয়ে যাওয়া নিয়ে গণ্ডগোল হয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে। প্রশাসনকে জানালেও কিছু করছে না।
ক্ষতিগ্রস্ত বিশ্বনাথ সাহা বলেন,আমার বারান্দার খুঁটি ভেঙে গিয়েছে। বরাতজোরে রক্ষা পেয়েছি আমরা। যেভাবে মাটি বোঝাই ট্রাক্টর চলছে, রাস্তায় চলাচল করা মুশকিল। স্কুলে যাওয়ার সময় ভয়ে থাকে ছাত্রছাত্রীরাও।
বাসিন্দারা বলছেন, এই এলাকায় তিনটি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। তাছাড়া গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে তিনটি পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। যেভাবে দ্রুতগতিতে মাটি বোঝাই ট্রাক্টরগুলি যাতায়াত করে, বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। অবিলম্বে ওই রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টর যাতায়াত বন্ধ করতে হবে। নাহলে সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করে যান নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
জখম রেশন ডিলার জয়ন্ত কুণ্ডুর বক্তব্য, সিমেন্টের খুঁটির জন্য আমার প্রাণরক্ষা হয়েছে। আরও পাঁচজন গ্রাহক জখম হয়েছেন। চাঁচল থানার এক আধিকারিক বলেন, ট্রাক্টরটি আটক করা হয়েছে। চালকের খোঁজ চলছে। ট্রাক্টরের গতি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রাক্টরের চাকার আঘাতে জখম রেশন ডিলার। - নিজস্ব চিত্র।