চামোলি: ফের কপ্টার দুর্ঘটনা উত্তরাখণ্ডে। মৃত্যু হল ক্যাপ্টেন সহ ৫ যাত্রীর। শুক্রবার দুপুরে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই বদ্রিনাথ থেকে দেরাদুনের সহস্ত্রধারার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল একটি যাত্রীবাহী কপ্টার। কিছুক্ষণ পরে জোশিমঠের কাছে সেটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জানা যায়, চাইয়েন গ্রামের কাছে সেটি ভেঙে পড়েছে। কপ্টারে থাকা ৬ জনেরই মৃত্যুর খবর মেলে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন বেঙ্গালুরুর এবং পাইলট দিল্লির বাসিন্দা। প্রাথমিকভাবে অনুমান, প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরেই এই দুর্ঘটনা।
শুক্রবার সকাল থেকেই চামোলির আকাশ ছিল মেঘে ঢাকা। ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের কমলা সতর্কতা জারি করেছিল আবহাওয়া দপ্তর। তার মধ্যেই উড়ান শুরু করে ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশন সংস্থার ভিটি-এইচসিএক্স কপ্টারটি। উত্তরাখণ্ড সিভিল অ্যাভিয়েশন ডেভলপমেন্ট অথরিটির জানিয়েছে, দুপুর ১টা ১৪ নাগাদ উড়ান শুরু করে কপ্টারটি। কিছুক্ষণের মধ্যে জোশিমঠের উপত্যকার কাছে কপ্টারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় একই সময়ে হেলিকপ্টারটির ট্র্যাকিং সিস্টেমও খারাপ হয়ে গিয়েছিল। নিখোঁজ হেলিকপ্টারের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। জোশিমঠ থানার সাব-ইনস্পেক্টর মনোহর খানাল জানান, দুপুর ২টো ২১ মিনিটে হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার খবর মেলে। আকাশপথে নিখোঁজ কপ্টারের খোঁজে তল্লাশির সময় চাইয়েন গ্রামের কাছে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে মৃতদের পরিবারকে যাবতীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।
জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত কপ্টারটির পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন হিমাংশু সবরওয়াল (৪৮)। তিনি পশ্চিম দিল্লির শালিমার বাগের বাসিন্দা। বাকি পাঁচ যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন প্রতাপ বি নিংগারাজু (৪১), অরুণ সালুঙ্কে (৪৪), শঙ্কর গৌড়া (৩৯), সুধীর কে (৪৯) এবং এইচ এস নটরাজ (৫১)। তাঁরা প্রত্যেকেই বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। মৃতদের মধ্যে অরুণ কর্ণাটক পুলিশে কর্মরত ছিলেন। শঙ্করগৌড়া ছিলেন আইনজীবী। চামোলির এসপি জানিয়েছেন, বিমানের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬ জনেরই ঝলসানো দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবারের এই দুর্ঘটনার পর ফের উত্তরাখণ্ডের কপ্টার পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের বেশিরভাগ কপ্টার দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এই রাজ্যেই। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ১২টি কপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে উত্তরাখণ্ডে। তার মধ্যে ৫টি ক্ষেত্রে প্রাণহানি হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি অবতরণের সময় যাত্রীদের আহত হওয়ার মতোও ঘটনা ঘটেছে। গত বছর অসামরিক উড়ান প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মহল রাজ্যসভায় জানিয়েছিল, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ১২টি বড়ো কপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে সাতটিই উত্তরাখণ্ডে। এই দুর্ঘটনাগুলিতে মোট ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ২১ জনই প্রাণ হারিয়েছেন এই পাহাড়ি রাজ্যটিতে। গত বছরই চারধাম যাত্রার মধ্যে পরপর দু’টি দুর্ঘটনা ঘটে উত্তরাখণ্ডে। ৮ মে উত্তরকাশী ও ১৫ জুন কেদারনাথের কাছে এই দুই দুর্ঘটনায় মোট ১৩ জন প্রাণ হারান। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে কেদারনাথের পথে কপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল সাতজনের।
উত্তরাখণ্ডে কপ্টার দুর্ঘটনা
৩০ অক্টোবর ২০২৬
বদ্রিনাথ থেকে ফেরার পথে কপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত ৬
১৫ জুন ২০২৫
কেদারনাথ থেকে গুপ্তকাশী যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, মৃত ৭
৮ মে ২০২৫
খারাশালি থেকে ঝালা যাওয়ার মধ্যে কপ্টার ভেঙে ৬ জনের মৃত্যু
এপ্রিল ২০২৩
কপ্টারের টেইল রোটোরের আঘাতে মৃত্যু এক আধিকারিকের
অক্টোবর ২০২২
কেদারনাথের পথে কপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৭ জনের
এপ্রিল ২০১৮
বায়ুসেনার কার্গো হেলিকপ্টারে আগুন, মৃত ১
জুন ২০১৩
কেদারনাথ বিপর্যয়ে উদ্ধারকাজের সময় দুর্ঘটনা, মৃত ১৩
জুলাই ২০১৩
কেদারনাথে কপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু পাইলট ও কো-পাইলটের



