সংবাদদাতা, বজবজ: বজবজ আইওসি প্লান্টে শতাধিক চুক্তিভিত্তিক গাড়ির চালক ও খালাসির বকেয়া বেতন বাবদ প্রাপ্য প্রায় ৬ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে! এই যড়যন্ত্রের পিছনে দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জাহাঙ্গির খান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরাই। তাঁদের অভিযোগ, জাহাঙ্গিরের সঙ্গে যোগসাজশে ওই টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। পাশাপাশি চালক ও খালাসিদের উপর হামলা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েও কর্মচ্যুত করা হয়েছে তাঁদের। এদিকে বকেয়া টাকা না-পাওয়ার কারণে গত কয়েকমাস ধরে পরিবার নিয়ে ভয়ংকর আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
প্রতিবাদে শনিবার দিনভর বজবজ আইওসি প্লান্টের বাইরে তাঁরা অবস্থান বিক্ষোভ করেন। বকেয়া প্রাপ্য টাকা ফেরত, পুনরায় তাঁদের কাজে ফেরানোর দাবি জানান চালক ও খালাসিরা। রবিবার রাতে বজবজ থানায় চালক ও খালাসিদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে।
জেলা পুলিসের এক অফিসার বলেন, প্রাপ্য আদায়ের ব্যাপারে পুলিস একা কিছু করতে পারবে না। কারণ, এর সঙ্গে ঠিকাদার, কোম্পানি এবং তৃণমূলের স্থানীয় নেতা থেকে জাহাঙ্গির খানেরও নাম আসছে। শ্রমিকদের ওই টাকা সত্যিই আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে জাহাঙ্গিরের যোগসাজশের অভিযোগ, সবটা নিয়েই তদন্ত হবে। পাশাপাশি আইওসি প্লান্টে একবছর আগে ঘটনার দিন চালক ও শ্রমিকরা অভিযুক্ত হলেও পালটা হামলার পিছনে জাহাঙ্গির ও তাঁর দলবল জড়িত থাকার বিষয়টি এবার খতিয়ে দেখবে পুলিস।
পুলিস সূত্রের খবর, একবছর আগে বকেয়া টাকা পাওয়ার দাবিতে বজবজ আইওসি প্লান্টে চুক্তিভিত্তিক গাড়ির চালক ও খালাসিরা আন্দোলনে নামেন। তাঁদের টানা তিনদিনের আন্দোলনের জেরে আইওসি বটলিং প্লান্টের কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, এখানে চালক ও খালাসিদের সংগঠন জাহাঙ্গির খানের নির্দেশেই চলে। বিজেপির ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য জয়দেব দত্ত বলেন, এই আইওসি প্লান্টে জাহাঙ্গিরের খানের টাকায় কেনা ১৩টি বড়ো ট্রাক খাটে। সেই ট্রাক বন্ধ হয়ে যায়। তাতেই জাহাঙ্গির খান দলবল পাঠিয়ে চালক ও খালাসিদের উপর হামলা চালান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের ভিতর সংঘর্ষ হয়। কিন্তু পুলিস একতরফাভাবে ৯৯ জন চালক ও খালাসিকে ধরে জেলে ঢুকিয়ে দেয়। জাহাঙ্গির ও তাঁর স্যাঙাতদের ধরা হয়নি। পালাবদলের পর আইওসি প্লান্টে গিয়ে কাজ হারানো শ্রমিকদের কাজে ফেরাবার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বলেছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে এখনও কেস চলছে, তাঁদের এখনই ফেরানো যাবে না। তবে যে সমস্ত লোকজনের নামে কেস নেই, ধীরে ধীরে তাঁদের সবাইকে কাজে ফেরানো হবে।