নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: বিজেপির নয়া জেলা সভাপতির ডাকা বৈঠকে এলেন না দলের কোনও বিধায়কই। কেউ অসুস্থ, কেউ দিল্লি আবার কেউ কলকাতায়। বিধায়কদের গরহাজিরা নিয়ে এমনই দাবি শোনা গেল বিজেপির কোচবিহার জেলা নেতাদের মুখে। ফলে বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার কোচবিহারে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে দলের ছয় বিধায়ককে ছাড়াই বৈঠক করতে হল নয়া জেলা সভাপতি অভিজিত্ বর্মনকে। এমনকী সেই সাংগঠনিক বৈঠকে আসেননি প্রাক্তন জেলা সভাপতিও। সবমিলিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।
যদিও, দলীয়স্তরে দাবি, নব নির্বাচিত সভাপতি, জেলার পদাধিকারি, মোর্চার সভাপতি সহ সব স্তরের কার্যকর্তাদের নিয়ে এদিন বৈঠক হয়েছে। আগামী দিনে সাংগঠনিক কাজ তরান্বিত করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফালাকাটার বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ জোনের কনভেনার দীপক বর্মন। জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, এদিন কোচবিহারের বিধায়কদের মধ্যে কেউই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। দু’জন বিধায়ক মালতী রাভারায় এবং সুশীল বর্মন দিল্লি গিয়েছেন। নিখিলরঞ্জন দে অসুস্থ। কেউ ব্যস্ত থাকতে পারেন। বাইরে কাজ থাকলে কিভাবে আসবেন। তাঁরা সাংগঠনিক কাজ করে চলেছেন। আমাদের সঙ্গে সবার যোগাযোগ রয়েছে।
এদিন বৈঠকে অনুপস্থিতি নিয়ে বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুকুমার রায়ের ব্যাখ্যা,আমি বৈঠকে যেতাম। কিন্তু আমার গাড়ির চালককে আদালতে মামলার কারণে যেতে হয়েছিল। সেখানে দেরি হয়ে যাওয়ায় শেষপর্যন্ত আর যেতে পারিনি। আমাদের দুই বিধায়ক দিল্লি গিয়েছেন। বরেন বর্মন কলকাতায় গিয়েছেন। মিহিরবাবু অসুস্থ। তবে এখন তিনি কোথায় আছেন, সেটা জানা নেই। এই গরহাজিরার ফলে সাংগঠনিক কাজেকোনও প্রভাব পড়বে না। এটা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একটা বৈঠক ছিল। সেখানে জেলার সাংগঠনিকস্তরের পদাধিকারিরা সবাই উপস্থিত ছিলেন। আমি থাকতে পারলে ভালো হতো।
কোচবিহারে এমনিতেই বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থা ঢিলেঢালা। লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসন হাতছাড়া হওয়ার পর বহু বিজেপি নেতা, কর্মী দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এরপর সিতাই বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির বিপুল ভোটে পরাজয়ও দলে প্রভাব ফেলেছে। দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে একটা টানাপোড়েন চলছিল। দলের বহু কর্মী কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়েছেন। এরমধ্যেই নতুন জেলা সভাপতি হিসাবে অভিজিৎ বর্মন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি দল জেলার ৪৩টি মণ্ডল কমিটি গঠন করতে গিয়ে রীতিমতো হিমসিম খেয়েছে। প্রথম দফায় ২৫ ও দ্বিতীয় দফায় ১৪ টি মণ্ডল কমিটি গঠন করেছে। এখনও চারটি মণ্ডল কমিটি বাকি। অধিকাংশ বুথ কমিটি গঠিত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নতুন জেলা সভাপতির উপস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বৈঠকে বিধায়কদের অনুপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নিজস্ব চিত্র।