নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি খোয়ানো পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৬০১ জন শিক্ষাকর্মীর মধ্যে ৫৭৭ জন ভাতার জন্য আবেদন করলেন। বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রত্যেক স্কুল থেকে তালিকা চাওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত দিনের শেষে দেখা যায়, ভাতা নেওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন আবেদন জমা করেননি। শুক্রবার অফিস খোলার পর থেকেই অনিচ্ছুক শিক্ষাকর্মীদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও টিআইসিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসের কর্মীরা। ফোন যাওয়ার পর কয়েকটি স্কুল থেকে ১২ জনের নথি জমা পড়ে। তবে, শুক্রবার অফিস বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত দেখা যায়, এখনও ২৪ জন আবেদন করেননি। আগামী সোমবার তাঁরা যাতে আবেদন করেন সেজন্য ফের উদ্যোগী হবে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিস।
২০১৬ সালে এসএসসি প্যানেলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিভিন্ন স্কুলে মোট ১৫১ জন গ্রুপ-সি কর্মী এবং ৪৫৫ জন গ্রুপ-ডি কর্মী নিয়োগ হয়। সুপ্রিম কোর্ট ওই প্যানেলের সকল শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করেছে। অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে বিস্তর অনিয়ম হয়েছে বলে সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ। এই অবস্থায় চাকরি খোয়ানো শিক্ষাকর্মীদের জন্য প্রতি মাসে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রুপ-সি কর্মীদের মাসে ২৫ হাজার এবং গ্রুপ-ডি কর্মীদের মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
গত ২৬ মে সোমবার থেকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে অশিক্ষক কর্মীদের নাম সহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য চাওয়া হয়। কাঁথির অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট ইনসপেক্টর অব স্কুল (এডিআই) অফিসে কাঁথি ও এগরা মহকুমার অশিক্ষক কর্মীদের তথ্য জমা করা হচ্ছে। হলদিয়ায় অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনসপেক্টর (এআই) অফিসে ওই মহকুমার অশিক্ষক কর্মীদের তথ্য জমা নেওয়া হচ্ছে। তমলুক মহকুমার স্কুলের অশিক্ষক কর্মীদের নথি মানিকতলায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে জমা নেওয়া হয়। আগামী মঙ্গলবার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিস থেকে আবেদনপত্র সহ নথি বিকাশ ভবনে পৌঁছবে। সেখান থেকে শ্রমদপ্তরের অফিসে পাঠানো হবে। শ্রমদপ্তর থেকেই ভাতা দেওয়া হবে।তমলুক ব্লকের কেলোমাল সন্তোষিণী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মৃন্ময় মাজি বলেন, আমাদের স্কুলে একজন গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। তিনি ভাতা নেবেন না বলে আবেদন না করে বসেছিলেন। তারপর বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ আসতে বৃহস্পতিবার আবেদন করেছেন। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পলাশ রায় বলেন, ২৪ জন বাদে সকল শিক্ষাকর্মীর আবেদন পাওয়া গিয়েছে। বাকিরা যাতে সোমবার আবেদন করেন সেই চেষ্টা চলছে। আমরা চাই, চাকরি বাতিল হওয়া সকল শিক্ষাকর্মী এই সুবিধা নিক।