নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। পূর্ব পাকিস্তানের পরাজয় এবং স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্ম। ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ সেই আত্মসমর্পণের ৫৪ বছর পূর্তি হল। প্রতিবছরের মতো এবারও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করল ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ড। মঙ্গলবার কলকাতার বিজয় দুর্গের (পূর্বতন ফোর্ট উইলিয়াম) সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারাও। শহিদদের সম্মান প্রদর্শন, ১৯৭১-এর স্মৃতিচারণার সঙ্গে সৌজন্যের বার্তাই দিল দুই দেশ। মুক্তিযোদ্ধারা ভারত ও বাংলাদেশকে একই মায়ের দুই সন্তান বলেও আখ্যা দিলেন। তাঁদের কথায়, ‘একাত্তরের সম্পর্ক এখনও অটুট।’
১৬ ডিসেম্বরকে সামনে রেখে ফোর্ট উইলিয়ামে প্রতিবছর উদযাপিত হয় বিজয় দিবস। এবার বাংলাদেশ থেকে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা, ২ সেনা অফিসার সহ মোট ২০ জন প্রতিনিধি হাজির এসেছিলেন। মঙ্গলবার সকালে বিজয় স্মারকে প্রথমে শহিদদের সম্মান জানানো হয়। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিজোরামের রাজ্যপাল জেনারেল বিজয়কুমার সিং, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস, ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রামচন্দর তেওয়ারি এবং অন্য পদস্থ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সোমবার মিলিটারি ট্যাটু অনুষ্ঠানেও অংশ নেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা।
মিজোরামের রাজ্যপাল জেনারেল বিজয়কুমার সিং বলেন, ‘আমরা চাই, দুই দেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকুক।’ বাংলাদেশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল লুৎফার রহমান বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের পুরোনো সম্পর্ক। আমরা একই ভাষা এবং একই সংস্কৃতির মানুষ। আমাদের দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল এবং এখনও আছে, তা ভবিষ্যতেও থাকবে।’ এদিনের অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা মেজর হাকিম। তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির প্রথম ব্যাচ। তিনি বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ একই মায়ের দুই সন্তান। কখনও মনোমালিন্য হতে পারে। ভাইয়ে ভাইয়ে আবার ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের মিলেমিশে থাকতে হবে।’