সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: স্বামীর দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল-নিজেদের পাকা বাড়ি হবে। আবাস যোজনায় ঘরের জন্য কয়েকবার আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু সরকারি পাকা ঘর পাওয়ার আগেই তিনি প্রয়াত হয়েছেন। অবশেষে তাঁর সেই অপূর্ণ ইচ্ছে পূরণ হল। বুধবার ‘বাংলার বাড়ি’র শংসাপত্র হাতে পেয়ে এমনটাই বললেন হুড়ার রামপুরের শান্তি রায়। তাঁর প্রয়াত স্বামীর ইচ্ছে পূরণ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদও জানান তিনি। শংসাপত্র পেয়ে অন্য উপভোক্তারাও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
পুরুলিয়া জেলায় এই প্রকল্পে ৫১ হাজার ৪২জন উপভোক্তা বাড়ি পাবেন। ১লক্ষ ২০হাজার টাকার মধ্যে প্রথম কিস্তির ৬০হাজার টাকা বুধবার থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পুরুলিয়ার ২০টি ব্লকের মধ্যে বরাবাজার ব্লকেই সবচেয়ে বেশি উপভোক্তা রয়েছেন। সেখানে ৫৮৫১জন বাড়ি পাবেন। এছাড়া, আড়ষায় ৬৯০, বলরামপুরে ৬৫০, বান্দোয়ানে ১৪৩০, জয়পুরে ২১২২, বাঘমুণ্ডিতে ২৭৪৫, হুড়ায় ৪২৭৫, ঝালদা ১ ও ২ ব্লকে ১০২২ ও ৪০৯জন বাড়ি পেতে চলেছেন।
মানবাজার ১ ও ২ ব্লকে ২৭৪৭ এবং ২২৯২, নিতুড়িয়ায় ২২৭১, পাড়ায় ৫১৯১, পুঞ্চায় ২০৩৬, পুরুলিয়া ১ ও ২ ব্লকে ১৮৫০ ও ২২৭৮ জন পাকা বাড়ি পাচ্ছেন। রঘুনাথপুর ১ ও ২ ব্লকে ২৬৫১ ও ৩৩৫০, সাঁতুড়িতে ৪১৪৪, কাশীপুরে ৩০৩৮জন উপভোক্তা রয়েছেন। ওই সমস্ত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৩০৬কোটি টাকা খুব তাড়াতাড়ি পাঠানো হবে।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর থেকে প্রকল্পের সূচনা করেন। সেসময় হুড়া ব্লকের হাটতলা ময়দানে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি মুখ্যমন্ত্রীর সভা দেখানো হয়। সেখানে মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু, জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত, বিধায়ক রাজীবলোচন সোরেন, সুশান্ত মাহাত, জেলাশাসক কোন্থাম সুধীর, পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। জেলাশাসক বলেন, পুরুলিয়া জেলার ৫১ হাজার ৪২জন উপভোক্তা এই প্রকল্পে বাড়ি পাবেন। অনুষ্ঠান থেকে ২০জন উপভোক্তার হাতে প্রকল্পের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
শংসাপত্র পেয়ে হুড়া ব্লকের বাসিন্দা চঞ্চলা রায় বলেন, স্বামী ও ছেলে বেশ কয়েকবছর আগেই মারা গিয়েছেন। পরিবারের বাকিদের নিয়ে মাটির বাড়িতে থাকি। কিন্তু দিদির উপর ভরসা ছিল। এবার পাকা ঘর পেতে চলায় সেই ভরসা আরও অটুট হল। স্থানীয় বধূ যাতনা গোপ বলেন, দিদি কথা দিয়ে কথা রেখেছেন। আমরা যতদিন বাঁচব, তাঁর এই উপকার ভুলতে পারব না।