সংবাদদাতা, বারুইপুর: পুচুকে খুঁজে দিলে নগদ নারায়ণ। কড়কড়ে পাঁচ-পাঁচটি হাজার টাকা পুরস্কার। মাসের শেষে মন্দ কি? বলে খুঁজতে শুরু করেছেন অনেকে।
সংবাদদাতা, বারুইপুর: পুচুকে খুঁজে দিলে নগদ নারায়ণ। কড়কড়ে পাঁচ-পাঁচটি হাজার টাকা পুরস্কার। মাসের শেষে মন্দ কি? বলে খুঁজতে শুরু করেছেন অনেকে।
পুচু খুব আদরের। তার সাদা রং। মাথার দিকটি হাল্কা খয়েরি। পিঠের দিকেও খয়েরি ছোপ। নাম ধরে ডাকলে জুল জুল করে তাকায়। মাছ ছাড়া মুখে রোচে না। তাও যে সে মাছ নয়। চিংড়ি মাছ দিয়ে ভাত মেখে দিলে তবে খায়। কিন্তু এখন শোভা মিত্র চিংড়ি কেনাই ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ এক মাস ধরে পুচু নিখোঁজ। আর শোকে, হতাশায় কাতর শোভাদেবী।
তিনি পুচুর ছবি দিয়ে পোস্টার ছাপিয়েছেন। বারুইপুরের অলিগলি ভরিয়ে দিয়েছেন পোস্টারে। তাতে বিড়লটির ছবি দেওয়া। শারীরিক বর্ণনাও দেওয়া আছে। পুচুর সর্বক্ষণের সঙ্গী মিত্রবাড়ির আর একটি বিড়াল। তার নাম পুচুলি। সঙ্গী বিহনে এখন পুচুলির মনও খারাপ। তারও খাওয়া দাওয়া লাটে।
বারুইপুরের তিন নম্বর ওয়ার্ডের শাহাজান রোডের বাসিন্দা শোভাদেবী। বিড়াল পোষা তাঁর তো বটেই তাঁর পরিবারেরও শখ। তিনি বলেন, ‘এক বছর বয়স পুচুর। আমার বাড়িতে দু’টি বিড়াল। পুচু নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুচুলির মন খারাপ। আমার প্রাণ ছিল পুচু। রোজ চিংড়িমাছ আর ভাত খেত। কোলে সারাদিন শুয়ে থাকত।’ তিনি জানান, এই দু’টি ছাড়াও তাঁর বাড়িতে পাড়ার পাঁচটি বিড়াল আসে। তাদেরও দেখাশোনা করতে হয়। কিছুদিন আগে দার্জিলিং গিয়েছিলেন শোভাদেবীরা। বাড়ি ফিরে দেখেন পুচু নেই। শোভা মিত্র বলেন, ‘এক বছরের বাচ্চা। কে কী করল ভেবে পাচ্ছি না। ওর খোঁজ পেতেই পোস্টার মেরেছি। আমার ফোন নম্বরও দেওয়া আছে তাতে। এতেও কাজ না হলে মাইক নিয়ে গোটা বারুইপুর ঘুরব। আমাদের সবার মন খারাপ। বাড়ির লোকজন প্রচুর খোঁজাখুজি করেছে। কিন্তু পায়নি। ভেবেছিলাম থানায় অভিযোগ জানাব। কিন্তু লোকে কি বলবে সেই ভেবে করিনি। কিন্তু কি যে করব এখন ভেবে পাচ্ছি না।’ নিজস্ব চিত্র