নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নির্বিচারে সবুজ নিধন চলছে পূর্ব বর্ধমানে। ভাতারের সেলেণ্ডা এলাকায় প্রায় ৫০টি গাছ রাতারাতি কেটে নেওয়া হয়েছে। বলগোনা-চন্দ্রপুর রাস্তার পাশে এই গাছগুলি ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রবিবার থেকে হঠাৎ করেই রাস্তার পাশে থাকা গাছ কাটতে শুরু করে। এলাকার প্রভাবশালীদের হাত তাদের মাথার উপর থাকায় কেউ মুখ খোলার সাহস দেখায়নি। তবে বনদপ্তর খবর পেয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। তাদের দাবি, গাছ কাটার অনুমতি ছিল না। বলগোনার পঞ্চায়েত প্রধান লীলা বেগম চৌধুরী বলেন, ৪৫টি গাছ ওরা কেটেছে। গাছগুলি ঝড়ে পড়ে গিয়েছিল। ধান জমিতে পড়ে থাকায় সেগুলি কাটা হয়। এছাড়া কয়েকটি গাছ মরে গিয়েছিল। সেগুলি কাটা হয়েছে।
যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবি মানতে নারাজ। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, গাছ ভেঙে পড়ার মতো ঝড় হয়নি। সব গাছই সতেজ ছিল। ফায়দা তোলার জন্য এদিন সেগুলি কাটা হয়। গাছ কেটে ওই এলাকাতেই মজুত করা হয়েছিল। বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, গাছ কাটার জন্য পঞ্চায়েত এবং দপ্তরের কাছে অনুমতি নিতে হয়। সেসব তারা নেয়নি। এলাকার এক প্রভাবশালীর মদতে গাছগুলি কাটা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে ১০০দিনের প্রকল্পে গাছগুলি রোপণ করা হয়েছিল। রাস্তার দু’পাশে গাছ থাকায় এলাকার সৌন্দর্য বদলে গিয়েছিল। কিন্তু কিছু টাকার লোভে একটি চক্র সবুজ নিধন করেছে। জেলার বাসিন্দারা বলেন, পূর্ব বর্ধমানে এই প্রথম নয়, এর আগে আউশগ্রাম, রায়না, মেমারি এলাকাতেও গাছ কাটা হয়েছিল। কোনও ক্ষেত্রেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেকারণে গাছ মাফিয়ারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নতুন করে জেলায় গাছ রোপণের কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে না। অথচ প্রায়দিনই কোথাও না কোথাও গাছ কাটা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের হাত মাথার উপর থাকায় কোথাও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখাচ্ছে না। প্রশাসনের আধিকারিকরা কোনও কোনও ক্ষেত্রে কিছু টাকা জরিমানা করে দায় সারছে। এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, অনুমতি ছাড়া যে বা যারা গাছ কাটছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে বনদপ্তরের সঙ্গে কথা বলব।