নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: স্কুলে গরমের ছুটি চলাকালীন প্রায় প্রতিটি ক্লাসরুম থেকেই সিলিং ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছিল। ৫০টিরও বেশি ফ্যান চুরি করে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ছুটি শেষে সোমবার খুলেছে স্কুল। তাই শনিবার ক্লাসরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে জানা যায় চুরির ঘটনা। মাথায় হাত পড়ে ডোমজুড়ের বেগড়ি গার্লস হাই স্কুল কর্তৃপক্ষের। অসহনীয় গরমে ছাত্রীরা কীভাবে ক্লাস করবে, তা ভেবেই দিশাহারা হয়ে পড়েন শিক্ষিকারা। এদিন গরমে ক্লাসরুমে হাঁসফাঁস করতে থাকে পড়ুয়ারা। কোনওমতে প্রথম পিরিয়ডের ক্লাসটুকু করেই ছুটি দিতে হয়েছে ছাত্রীদের। এখন একলপ্তে এতগুলি ফ্যান কীভাবে জোগাড় করা যায়, তা ভেবেই চিন্তায় পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা নেই। নিরাপত্তারক্ষী ব্যবস্থাও নেই। এই সুযোগে গরমের ছুটির সময়ে এই স্কুলে লুটপাট চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রায় ১৬টি ক্লাসরুমের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানগুলি চুরি করা হয়েছে। স্কুলের আসবাবপত্র, এমনকী জলের সংযোগও ভেঙে ফেলেছে তারা। এই ঘটনা সামনে আসতেই ডোমজুড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এদিন ভরা ক্লাসরুমে ফ্যান না থাকায় গরমে ছটফট করতে থাকে তারা। দু’-একজন অসুস্থও হয়ে পড়ে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সোমদত্তা সরকার (দাশ) বলেন, ‘স্কুলে চুরির খবর জানতে পেরে এদিন ৩০ শতাংশ পড়ুয়া কম এসেছিল। কিন্তু গরমের মধ্যে ওদের পক্ষে এভাবে ক্লাস করা সম্ভব নয়। জেলা শিক্ষাদপ্তরে ইতিমধ্যেই সমস্যার কথা জানিয়েছি। কাউন্সিলের জয়েন্ট সেক্রেটারিকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেভাবেই হোক ফ্যান জোগাড় করতেই হবে।’ জানা গিয়েছে, যে কয়েকটি ক্লাসরুম অক্ষত রয়েছে, সেখানে চলতি সপ্তাহে রোটেশন পদ্ধতিতে ক্লাস করানো হবে। সপ্তাহে একেক দিন দু’টি করে শ্রেণিকে একসঙ্গে পড়ানো হবে। আপাতত এভাবেই পঠনপাঠন জারি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।



