নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পিস্তলপিছু মিলবে পাঁচ হাজার টাকা। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পাচারে বিপুল পরিমাণ টাকা মেলায় এই কারবারে ভিড়ছেন অনেকেই। সেই কারণে বাড়ছে কারবারে মিডলম্যানের সংখ্যা। মোটা টাকার লোভেই সপ্তাহে একজন মিডলম্যান দু-তিনটি করে কাজ করছে। সাঁইথিয়া স্টেশনে ট্রেন থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধৃত দু’জনকে জেরা করে এই তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
সম্প্রতি সাঁইথিয়ায় বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গগামী ট্রেন থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করে বেঙ্গল এসটিএফ। এরমধ্যে একজন মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা অন্যজন ঝাড়খণ্ডের দুমকার। মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা শেখ মফিউলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মুর্শিদাবাদে বেআইনি অস্ত্র কারবারের মাথারা বসে রয়েছে। যাদের কাছে ‘আর্মস’ আসছে বিহার-ঝাড়খণ্ড থেকে। অস্ত্র নিয়ে আসার জন্য মাস মাইনে করা লোক রেখেছে চক্রের পান্ডারা। এরাজ্যের কারবারি ও ভিন রাজ্যে থাকা বেআইনি অস্ত্র কারখানার মালিক দু’তরফেই মিডলম্যান রয়েছে। একটি পিস্তল পাচার করলে মিডলম্যানরা পাচ্ছে ৫ হাজার টাকা। এক-একজন পাঁচ বা দশটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যাচ্ছে। সাপ্লাই করে ফিরে এলেই নগদ টাকা দেওয়া হচ্ছে। সপ্তাহে অন্তত তিনবার বিভিন্ন রাজ্যে যাচ্ছে মিডলম্যানরা। তবে কাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র যাচ্ছে, এই খবর তারা পাচ্ছে না। কারণ দুই বা তিনহাত ঘুরে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারির কাছে এগুলি পৌঁছে যাচ্ছে। পুলিশের নজর এড়াতেই এতগুলি ধাপ রাখা রয়েছে।
সাঁইথিয়ায় ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এক একটি ট্রেনে চার থেকে পাঁচজন মিডলম্যান আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ কামরা হওয়ায় চট করে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। কাঁচা টাকার লোভে অল্পবয়সী যুবকদের অনেকেই এই কাজে ঝুঁকছে। বিগত একবছরে এই সংখ্যা বেড়েছে যথেষ্ট ভালো মাত্রায়। যে কারণে অস্ত্র পাচার ব্যবসার নেটওয়ার্ক অনেক দূর ছড়িয়ে গিয়েছে। তাই দু’একজন ধরা পড়লেও, অস্ত্র পাচারের কাজে ভাটা পড়ছে না। পুলিশের পক্ষেও এই সাপ্লাই চেনের একেবারে শেষ পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ ধরা পড়ার খবর এলেই, মিডলম্যানরা পাচারের রুট বদলে ফেলছে। সেই সঙ্গে কেউ ধরা পড়লে তাদের জামিন করানোরও ব্যবস্থা করছে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র কারখানার মালিক বা কারবারিরা।