Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে দেগঙ্গার ৫, বসিরহাটের ১ পড়ুয়া

ইজরায়েল-ইরানের সংঘাত ক্রমশ যেন মহাযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাতেই হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে বারাসত ও বসিরহাটের চারটি পরিবারের

ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে  দেগঙ্গার ৫, বসিরহাটের ১ পড়ুয়া
  • ১৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ইজরায়েল-ইরানের সংঘাত ক্রমশ যেন মহাযুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাতেই হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে বারাসত ও বসিরহাটের চারটি পরিবারের। কেউ গিয়েছেন পড়াশোনা করতে, কেউবা গিয়েছেন ধর্মীয় স্থানে। আচমকা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে পড়েছেন তাঁরা। ফলে চূড়ান্ত দুর্বিপাকে পড়ে গিয়েছে পরিবার। চিন্তায় প্রতিবেশীরাও। কবে তাঁরা বাড়ি ফিরবেন, সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছেন সকলে। কেমন রয়েছেন তাঁরা, সেই উত্তরও অধরা পরিবারের কাছে! কেবল তাঁদের ‘ভরসা’ রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের সহযোগিতা। জানা গিয়েছে, বসিরহাটের সাঁকচূড়ার বাসিন্দা সৈয়দ বাকির মাজলেসি রেজবি ২০১৮ সালে ইরানের কোম শহরে ফারসি ভাষায় ডক্টরেট করতে গিয়েছেন। আট মাস আগে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। ক’দিন পরেই তাঁর বাড়ি ফেরার কথা। তারমধ্যেই যুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে। পরিবারের সঙ্গে এখন একপ্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। উদ্বিগ্ন পরিবার।  এনিয়ে সমাজ মাধ্যমে বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যয়ের মারফত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আর্জি জানিয়েছেন সৈয়দ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র সৈয়দ। তিনি ফারসি ভাষায় ডক্টরেট করছেন ইরানের কোম শহরে আল-মোস্তফা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। সৈয়দের দাদা গোলাম আসকারি উদ্বিগ্ন স্বরে বলেন, ভাইয়ের টিকিট কাটা ছিল। ২০ জুন বাড়ি আসার কথা। এখন যা পরিস্থিতি আমাদের খাওয়া বা ঘুম সবকিছুই উঠে গিয়েছে। টিভি থেকে চোখ সরাতে পারছি না। ভাইয়ের সঙ্গে দু’দিন আগে কথা হয়েছে। আমাদের দাবি, দ্রুত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদি ভাইয়ের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করুন। বিধায়ক বলেন, বিষয়টা জানার পরই আমি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জানিয়েছি। ওখান থেকে এক সাংসদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা সমস্ত তথ্য পাঠিয়ে দিয়েছি।

Advertisement

অন্যদিকে, দেগঙ্গার চৌরাশি গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢালিপাড়া থেকে তিনটি পরিবারের মোট পাঁচজন গিয়েছেন ইরানে ধর্মীয় স্থান দর্শনে। কিন্তু হঠাৎ করেই যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য তাঁরা আটকে পড়েছেন। সঠিকভাবে মিলছে না খাবার। মাঝেমধ্যে কথা হলেও তা এক মিনিট পেরচ্ছে না। শুধু তাই নয়, ইন্টারনেট নেই। ফলে, চূড়ান্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছেন ঢালিপাড়ার এই পরিবারগুলি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঢালিপাড়ার গফুর আলি গায়েন ও তাঁর স্ত্রী সুকরান বিবি, সাহিদ আলি গায়েন ও তাঁর স্ত্রী মুসলিমা বিবি এবং পড়শি আক্রাম হোসেনরা গত ৩০ মে প্লেনে চড়ে গিয়েছেন ইরানে। ফেরার কথা ছিল ১৮ জুন। কিন্তু, হঠাৎ করেই সপ্তাহখানেক আগে শুরু হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির দরুণ দুর্বিপাকে পড়ে গিয়েছেন তিনটি পরিবার। জল থেকে শুরু করে খাবার সব কিছুরই চূড়ান্ত সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলেই জানতে পেরেছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘনঘন বিস্ফোরণের আওয়াজে কার্যত দিশাহীন অবস্থা প্রত্যেকেরই। তাই, বাড়ি ফেরা কবে হবে, তা এখনও অজানা প্রত্যেকের কাছে। আক্রাম তাঁর দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে গিয়েছেন। স্ত্রী সালমা বিবি কার্যত দিশাহারা। তিনি বললেন, কিছুই চাই না আমি। সরকার স্বামীকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করুক। অন্যদিকে শাহিদ আলির ছেলে হোসেন মেহেদি হতাশার সুরে বললেন, বাবা-মা সহ পড়শি মোট পাঁচজন গিয়েছেন ইরানের ধর্মীয় স্থানে। কিন্তু এখন যোগাযোগ করতে পারছি না। আমরা বিডিও অফিসে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করি সরকার আমাদের এই অসহায় সময়ে পাশে দাঁড়াবে।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ