Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রথম দিনেই ৫ লক্ষ ‘যুবসাথী’, শিবির খুলতেই আবেদনের হিড়িক জেলায় জেলায়

প্রথম দিনই ব্যাপক সাড়া পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। পাহাড়, জঙ্গলমহল থেকে গঙ্গাসাগরের প্রত্যন্ত অঞ্চল—সকাল থেকে সর্বত্রই স্বনির্ভর বাংলা শিবিরে ভিড়।

প্রথম দিনেই ৫ লক্ষ ‘যুবসাথী’, শিবির খুলতেই আবেদনের হিড়িক জেলায় জেলায়
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথম দিনই ব্যাপক সাড়া পেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। পাহাড়, জঙ্গলমহল থেকে গঙ্গাসাগরের প্রত্যন্ত অঞ্চল—সকাল থেকে সর্বত্রই স্বনির্ভর বাংলা শিবিরে ভিড়। আর এই ভিড়ের বেশিরভাগই ২১ থেকে ৪০ বয়সি। লক্ষ্য তাঁদের যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনপত্র তোলা এবং জমা করা। শিবিরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং খেতমজুরদের আর্থিক সহায়তারও আবেদন জমা নেওয়া চালু হয়েছে। তবে সবটাই ছাপিয়ে গিয়েছে যুবসাথী। ৯০ শতাংশ আবেদনই যুব সম্প্রদায়ের এই সশক্তিকরণ প্রকল্পে। আর তাই রাজ্যজুড়ে আয়োজিত ৭৬৯টি শিবিরে আসা ৬ লক্ষ ২৯ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ ৬৬ হাজারই ‘যুবসাথী’। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৩১ হাজার। এবং খেতমজুরদের আর্থিক সুবিধার জন্য আবেদন-খোঁজখবর মিলে প্রথম দিনের সংখ্যা সাড়ে ৩৬ হাজার। 

Advertisement

৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। চাকরির জন্য অপেক্ষা, বা স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টায় থাকা ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়াতেই এই প্রকল্প। এর মাধ্যমে এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে দেবে রাজ্য। অর্থাৎ, প্রকল্প ঘোষণার ৫০ দিনের মাথায় অনুদান দেওয়া চালু করে দেবে রাজ্য। সেই কারণেই তড়িঘড়ি বিশেষ শিবির করে আবেদনপত্র বিতরণ ও জমা নেওয়া চালু হয়ে গেল রবিবার সকাল ১০টায়। এই ক্যাম্প চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সকাল থেকে ভিড় থাকলেও, এক-একটি শিবিরে একাধিক কাউন্টার থাকায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হয়নি আবেদনকারীদের। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট ও মার্কশিট, ব্যাংকের পাশবইয়ের প্রতিলিপি আর দু’কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি নিয়ে গেলে গোটা প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গিয়েছে আধ ঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে। 
কেউ এই টাকায় বই কিনবেন, কেউ খরচ করবেন ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের ওষুধে। সর্বত্র চিত্র এটাই। যুবসাথীর আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর কালিম্পংয়ের রসনা ছেত্রী জানিয়েছেন, কন্যাশ্রী প্রকল্প আমাদের স্কুল এবং কিছুটা কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনা চালাতেও সাহায্য করেছে। এবার যুবসাথী টাকা পেয়ে আমরা চাকরির পরীক্ষার জন্য বই কেনা এবং টিউশন খরচের অনেকটা নিজেরাই বহন করতে পারব। উত্তর কলকাতার একটি ক্যাম্পে আবেদন করে বেরিয়ে আসা নীরজ কুমার সিং, সোহম পালের মতো একাধিক আবেদনকারীর কণ্ঠেও এক সুর। সোহম বলছিলেন, ‘অনেকেই ভালো র‌্যাঙ্কের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় একাধিকবার বসছেন। বাড়তি উপার্জনের চাপ থাকলে সংসারে তাঁদের আড়ষ্টতা তৈরি হয়। চাকরি করলে মনোযোগ নষ্ট হয়। তাই তাঁদের জন্য মাসে দেড় হাজার টাকা একটা বিরাট ব্যাপার। খুব উপকার হবে।’ 
জেলাশাসক সহ অন্যান্য সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি এদিন একাধিক কাউন্সিলার, বিধায়ক-মন্ত্রীদেরও সকাল থেকে শিবিরের তত্ত্বাবধান করতে দেখা যায়। তাঁরা আবেদনকারীদের ফর্ম ফিল আপ করতে সহযোগিতা করেন। আবেদন জমা পড়ার পরই কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা তা নির্দিষ্ট পোর্টালে তুলে দিয়েছেন। ফলে যাচাইয়ের কাজও দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে বলে রাজ্যের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন। পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদের মতো বিভিন্ন জেলায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আধিকারিকদের রীতিমতো বেগ পেতে হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ