Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বর্ণময়ী খালের গার্ডওয়াল ধসে ভেঙে পড়ল ৫ বাড়ি, ফাটল আরও ১২টিতে

টানা বৃষ্টির জেরে হাওড়ার শালিমারের লোয়ার ফোরশোর রোডে স্বর্ণময়ী খালের পাশে গার্ডওয়াল ধসে বড়সড় বিপত্তি ঘটল। ভেঙে পড়েছে বস্তি এলাকার প্রায় পাঁচটি বাড়ি।

স্বর্ণময়ী খালের গার্ডওয়াল ধসে ভেঙে পড়ল ৫ বাড়ি, ফাটল আরও ১২টিতে
  • ২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: টানা বৃষ্টির জেরে হাওড়ার শালিমারের লোয়ার ফোরশোর রোডে স্বর্ণময়ী খালের পাশে গার্ডওয়াল ধসে বড়সড় বিপত্তি ঘটল। ভেঙে পড়েছে বস্তি এলাকার প্রায় পাঁচটি বাড়ি। আশপাশে আরও ১০-১২টি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন হাওড়া পুরসভা, সেচদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কর্তারা। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি থেকে বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। ঠিক হয়েছে, শালবল্লা দিয়ে আপাতত গার্ডওয়াল মেরামতির কাজ করবে সেচদপ্তর।

Advertisement

পদ্মপুকুর থেকে আন্দুল রোড হয়ে আইআইইএসটি কলেজের পাশ দিয়ে এসে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ স্বর্ণময়ী খাল লোয়ার ফোরশোর রোডের কাছে মিশেছে গঙ্গায়। এই লোয়ার ফরশোর রোডের পাশে বালুঘাট এলাকায় খালের ধার ঘেঁষে রয়েছে একটি বড় বস্তি। শতাধিক ছোট ছোট বাড়ি রয়েছে বস্তিতে। খালের উল্টোদিকে একটি বেসরকারি নির্মাণ সংস্থা বহুতল বিল্ডিং তৈরি করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রবল বৃষ্টির জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে খালের পাশে থাকা গার্ডওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। মাটির ভিতরে হু হু করে জল ঢুকতে থাকে। গার্ডওয়াল ধসে পড়তেই বাড়িগুলিতে ফাটল চওড়া হতে শুরু করে। শুক্রবার সকালের মধ্যেই ভেঙে পড়ে প্রায় পাঁচটি বাড়ি। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবারই সেখানে যান দক্ষিণ হাওড়ার বিধায়ক নন্দিতা চৌধুরী। রাতে গৃহহীন কয়েকটি পরিবারকে স্থানীয় ক্লাবে এনে রাখা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য পুরসভার তরফে ত্রাণ সামগ্রী ও খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এদিন সকালে ঘটনাস্থলে যান জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়া। এরপর হাওড়া পুরসভার নিকাশি বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। পাশাপাশি সেচদপ্তরের আধিকারিকরাও যান সেখানে। পুরসভার মুখ্য প্রশাসক বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে পুরনো আমলের গার্ডওয়াল ভেঙে এই বিপত্তি হয়েছে। তবে কেউ আহত হননি। আপাতত সেচদপ্তর গার্ডওয়াল মেরামতির কাজ করবে। ততদিন ক্ষতিগ্রস্তদের স্থানীয় ক্লাব ও স্কুলে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
এদিন দুপুরে এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাস্তায়। ত্রাণের লাইনে খাবার নিতে ভিড় জমেছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করছেন শেখ আনসার, অনিরুদ্দিনরা। তাঁরা বলেন, ‘একেই দীর্ঘদিন ধরে খালের লকগেট খারাপ হয়ে থাকায় আশপাশের মাটি ধসে যাচ্ছে। তার উপর পাশে বহুতল নির্মাণের জন্য দিনরাত পাইলিংয়ের কাজ হচ্ছে। সব সময় ঘর কাঁপতে থাকে। মাটি ধসে গিয়েই এমনটা হয়েছে।’ 
স্থানীয়দের এই যুক্তি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, শালবল্লার ঠেকনা দিয়ে প্রাথমিকভাবে ভেঙে পড়া দেওয়াল মেরামত করা হবে। এরপর পুরসভার আধিকারিকরা ওই এলাকায় সমীক্ষা করে দেখবেন যে, সেখানে পাকাপাকিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঘর নির্মাণ করা যায় কি না।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ