নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা চক্রের কিংপিনকে গ্রেপ্তার করেছে ভবানীপুর থানার পুলিস। ধৃতের নাম শেখ আতিবুর রহমান। তার বাড়ি সুতাহাটা থানার কৃষ্ণনগর গ্রামে। এর আগে হলদিয়া মহিলা থানার পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। স্যুট বুট পরে দামী গাড়িতে চড়ে হলদিয়া টাটা স্টিল কারখানার সামনে নিজেকে ম্যানেজার (মানবসম্পদ) পরিচয় দিয়ে চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগের টোপ দিত বলে অভিযোগ। এজেন্টদের মাধ্যমে চাকরি প্রার্থী জোগাড় করা হতো। ওই কারখানায় চাকরি দেওয়ার নামে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা তুলেছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি পাঁচজন প্রতারিত হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন থানায় আতিবুর সহ গোটা গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। তার ভিত্তিতে হলদিয়া ভবানীপুর থানার পুলিস মূল অভিযুক্তকে পাকড়াও করেছে। এভাবে বেকার যুবকদের ঠকিয়ে ধৃত আতিবুর বহু সম্পত্তির মালিক। চারতলা বাড়ি। সম্প্রতি ৬৫ লক্ষ টাকা দিয়ে হলদিয়ায় জমি কেনার ফাইলও পেয়েছে পুলিস। এই ঘটনায় হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে হইচই পড়ে গিয়েছে।
হলদিয়ার মহকুমা পুলিস অফিসার অরিন্দম অধিকারী বলেন, ধৃতের বিরুদ্ধে হলদিয়ার বিভিন্ন থানায় কেস রয়েছে। আগেই হলদিয়া মহিলা থানার পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। তারপর প্রতারণা কেসে ভবানীপুর থানার পুলিস গ্রেপ্তার করেছে।
হলদিয়ার দুর্গাচক থানার ভাগ্যবন্তপুরের বিএসসি পাশ দুই ভাই অবনীভূষণ দাস ও অর্ণবকুমার দাস চাকরির জন্য মোট ২৭ লক্ষ টাকা দিয়েছেন বলে ভবানীপুর থানায় এফআইআর করেছেন। গত ২৭ মার্চ আতিবুর সহ ওই গ্যাংয়ের মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছেন অবনীভূষণবাবু। তাঁর বাবা আশিসকুমার দাস হলদিয়া সিপিটিতে চাকরি করতেন। অবসর নেওয়ার পর দুই ছেলের নামী কারখানায় চাকরির জন্য ২৭ লক্ষ টাকা দিয়ে এখন সর্বস্বান্ত। একইভাবে সুতাহাটা থানার বাহারডাব গ্রামের দেবব্রত পাত্র ও তনুশ্রী কালসা দাস চাকরির জন্য মোট ১২ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। তনুশ্রীদেবী তাঁর ছেলে এবং জামাইয়ের জন্য ওই টাকা দিয়েছেন। টাকা চাইতে গিয়ে শারীরিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে হলদিয়া মহিলা থানায় এফআইআর করেছেন। দুর্গাচকের সিপিটি মার্কেটের মৃণাল পাত্র চাকরির আশায় ১২ লক্ষ টাকা দিয়ে ঠকে গিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, স্যুট বুট এবং দামী গাড়িতে চড়ে ধৃত শেখ আতিবুর রহমান হলদিয়া টাকা স্টিল কারখানার গেটের সামনে চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করত। নিজেকে ওই কারখানার ম্যানেজার (এইচআর) বলে পরিচয় দিত। তার সঙ্গে আরও দু’জন থাকত। প্রাথমিক কথাবার্তা হওয়ার পর কখনও মেচেদা, চৈতন্যপুর, নিমতৌড়ি এবং জামশেদপুরে চাকরিপ্রার্থীদের ডাকা হতো। সেখানে লেনদেন চলত। টাকা নেওয়ার পর চাকরিপ্রার্থীদের টাকা স্টিল কোম্পানির ভুয়ো নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, গেটপাস, জ্যাকেট, হেলমেট প্রভৃতি তুলে দেওয়া হতো। চাকরিপ্রার্থীরা কারখানায় গেটে গিয়ে জানতে পারেন, সবই ভুয়ো। এভাবে আগেও অনেকে এসে ফিরে গিয়েছেন বলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের জানান।
অভিযোগকারী অবনীভূষণ দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে চলেছে। এই চক্রের মাথা হল, শেখ আতিবুর রহমান এবং তার স্ত্রী সোনালি বিবি। দামী গাড়ি চড়ত। ভাগ্যবন্তপুর গ্রামেরই এক যুবকের মধ্যস্থতায় অভিযুক্তের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। নিজেকে ম্যানেজার(এইচআর) পরিচয় দিয়েছিল। আমরা দুই ভাইয়ের চাকরির জন্য মোট ২৭ লক্ষ টাকা দিয়েছি। এভাবে আরও অনেকে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে ঠকে গিয়েছেন।