Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিস ও আয়কর অফিসার সেজে সোনার দোকানের টাকা-গয়না হাতিয়ে গ্রেপ্তার ৫

পুলিস ও আয়কর অফিসার সেজে সোনার দোকানের টাকা-গয়না হাতিয়ে গ্রেপ্তার ৫
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: পুলিস ও আয়কর অফিসার পরিচয় দিয়ে সোনার গয়না সহ দোকানের মালিককে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া ও কয়েক লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হল। এগরা শহরের মিলনী বাজার এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস আড়াই লক্ষ টাকা ও বেশকিছু সোনার গয়না উদ্ধার করেছে। একটি চারচাকা গাড়িও উদ্ধার হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম প্রশান্ত ঘোষ, ভোলা খান ও খাইরুল হালদার, আখতার খান, সাইফুল সর্দার। তাদের বাড়ি দক্ষিণ ২৪পরগনার বিভিন্ন থানা এলাকায়।  রবিবার তাদের কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। তবে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে টিআই প্যারেড করা হবে। তারপরই তাদের হেফাজতে নেবে পুলিস। রবিবার থানায় সাংবাদিক বৈঠক করে এই খবর জানান এগরার এসডিপিও দেবীদয়াল কুণ্ডু ও আইসি অরুণকুমার খান। পুলিস জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, মিলনী বাজারে শচীন প্যাটেল ও তার ভাই রাজু প্যাটেল একটি সোনার গয়নার দোকান চালান। শুক্রবার দুপুর ২টো নাগাদ পাকা সোনা কেনার জন্য একজন ক্রেতা সেজে হাজির হয়। পরে একটি চারচাকা গাড়ি এসে দোকানের সামনে দাঁড়ায়। সাদা পোশাক পরা চারজন গাড়ি থেকে নেমে দোকানে ঢোকে। তবে সঙ্গে জলপাই রঙের পোশাকে আরও একজন ছিল। হাতে ছিল লাঠি। সে নিজেকে কেশপুর থানার পুলিস এবং বাকি চারজন আয়কর দপ্তরের লোক হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা দাবি করে, দোকানে বেআইনিভাবে সোনার দোকান চালানোর খবর তাদের কাছে রয়েছে। তাই তারা তল্লাশি করতে এসেছে। দুষ্কৃতীরা দোকানের কর্মীকে ধমক দেয়। শুধু তাই নয়, তাদের সহযোগী তথা ক্রেতা সেজে দোকানে আসা ব্যক্তিটিও বেআইনি কারবারে যুক্ত রয়েছে, এই অভিযোগে তাকে আটক করা হচ্ছে বলে ‘নাটক’ চলে। পরে শচীনকে দোকানের সোনার গয়না এবং সমস্ত গয়নাগাটি ও নগদ টাকা ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়ে তাদের গাড়িতে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কথামতো শচীন তাদের গাড়িতে চেপে বসেন। গাড়িটি পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের দিকে চলে যায়। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে জানতে চাইলে মালিকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে নারায়ণগড়ের মকরামপুরের কাছে ব্যাগ কেড়ে নিয়ে দুষ্কৃতীরা শচীনকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। সেইসময় তাঁর ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর এগরা থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন শচীন। তদন্তে নামে পুলিস। রাতে হাওড়ার সাঁকরাইল থানার সহায়তায় ধুলাগড়ের কাছে গাড়ি সহ চালককে আটক করে পুলিস। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও চারজনকে আটক করা হয়। শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে জলপাই রঙের পোশাক পরা দুষ্কৃতী অধরা। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে দুষ্কৃতীদের  বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করে শচীন কেন তাদের গাড়িতে উঠলেন, গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরও দোকানের কর্মীরাও কেন চুপ থাকলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকবছর আগে চোরাই সোনার গয়না গলিয়ে বিক্রির অভিযোগে এই দোকানেই ভিনরাজ্যের পুলিস হানা দিয়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিস নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ