সোহম কর, কলকাতা: এ যেন সেই পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর ১ ভাগ স্থলের হিসেব। আসন সমঝোতা নিয়ে বামফ্রন্টের মধ্যে আলোচনা চলছেই। কে কতগুলো আসনে লড়াই করবে, কে কোন আসনে লড়াই করবে, এই সবকিছু নিয়ে কখনো দ্বিপাক্ষিক কখনো বামফ্রন্টের বৈঠক চলছে। এর মাঝে আই এস এফের সঙ্গেও বৈঠক হয়ছে। সিপিআই (এম এল) লিবারেশনের সঙ্গেও বৈঠক হোয়ছে। সবটা ঠিক হবে কবে? সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সাফ বক্তব্য, বামফ্রন্ট সবার আগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে। তারপর তিনি বললেন, ২৯৪ টা আসনের ৬ ভাগের ৫ ভাগ আসনে সমঝোতা হয় গিয়েছে। বাকি ১ ভাগ হোয়ে যাবে।
ফরোয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় সেলিমের এই বক্তব্যকে সমর্থন করেই বলছেন, ঠিকই! সংখ্যা নিয়ে তেমন সমস্যা নেই। কোন আসন কাকে ছাড়া হবে, সেই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রশ্ন হল, আলোচনা শেষ হবে কবে? সিপিএম কিংবা বাম কর্মী সমর্থকরা ইতিমধ্যেই দেওয়াল লেখা শুরু করে দিয়েছেন। শুধু প্রার্থীর নাম বাকি রাখছেন। আবার মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় দিনের পর দিন উত্তরপাড়ায় রয়েছেন। তাহলে কি সেখানে তিনিই প্রার্থী? এই প্রশ্নের উত্তরে মীনাক্ষী বলেন, পার্টি এখন ওই এলাকায় কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছে। ওদিকে খড়গ্রমে সিপিএমের যুব সম্পাদক ধরুবজ্যতি সাহা ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন। আবার গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সংসদ জোহর সরকার নাকি বামেদের সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হতে পারেন। কারন, তিনি গত কযেক মাসে বামেদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। যদিও সেই জল্পনা প্রাক্তন আমলা নিজেই উড়িয়ে দিয়েছেন। সমপ্রতি প্রাক্তন মুখযমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আমি কংগ্রেস বা অতি বামদের অনুষ্ঠানেও গিয়েছি। ভোট দাড়ানোর বিষয় একেবারেই গুজব।
কিন্তু বামফ্রন্টের অন্দরে, বাইরে ওই ১ শতাংশ ঠিক হবে কবে? জল্পনা, ৫ তারিখে ফের বামফ্রন্টের বৈঠক রয়েছে। সেই ৫ বা ৬ তারিখেই সবটা পরিস্কার হতে পারে। হচ্ছে তো সবই। ভোট শতাংশ কি বাড়বে? আসন কি পাওয়া যাবে? আলিমুদ্দিন জুড়ে চর্চা এটাই।