নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ই-স্কুটারের মালিকানার পাশাপাশি মাসিক রোজগারের লোভনীয় ‘অফার’। শোরুমে সবার চোখের সামনে সাজানো রয়েছে নতুন চকচকে সব স্কুটার। কিন্তু কে জানত, একই স্কুটার বিক্রি করা হবে একাধিক ক্রেতাকে! বাগুইআটির স্কুটার প্রতারণা কাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পেরেছে, শোরুমের ৪৭টি স্কুটার ‘বিক্রি’ করা হয়েছে ১৭০০’র বেশি ক্রেতাকে! পুলিসের দাবি, স্কুটার বিক্রি হতো শুধু কাগজে-কলমে। ক্রেতাদের বলা হতো, শোরুম থেকেই ভাড়ার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেই ভাড়া বাবদ মাসে সাড়ে সাত হাজার টাকা পেয়ে যাবেন ক্রেতা। এরকম আকর্ষণীয় ‘অফার’-এ সম্মত হলে শোরুমেই থেকে যেত বিক্রি হওয়া ই-স্কুটার। অন্য ক্রেতা এলে আগে ‘বিক্রি’ করা স্কুটারই দেখানো হতো। শোরুমের দক্ষ কর্মী বলতেন, ‘স্যার, কোন মডেলটা নেবেন, পছন্দ করুন!’
বাগুইআটির দেশবন্ধুনগর রেলপুকুর রোডে ওই শোরুম খোলা হয়েছিল। প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে অসংখ্য মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। পুলিস বিহার থেকে এই চক্রের দুই পান্ডাকে গ্রেপ্তারও করেছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে শোরুমে সাজিয়ে রাখা ৪৭টি ই-স্কুটার।
অনলাইন প্রতারণা দিন দিন বাড়ছে। কেউ ফোনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে ফ্যাসাদে পড়ছেন। কেউ অপরিচিতদের কথায় বিশ্বাস করে ঠকছেন, কেউ আবার অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। কিন্তু শহরের বুকে শোরুম খুলে এমন কৌশলে প্রতারণা বেনজির। তাছাড়া, ২০২৩ সাল থেকে শোরুমটি চলছে। বহু মানুষ আসছেন। স্কুটার কিনছেন। তাই কেউ সন্দেহও করেনি। পুলিস জানিয়েছে, জেরায় ১৫ কোটি টাকা প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে ধৃতরা। অর্থাৎ, ৮৫ হাজার টাকা করে দাম হলে সেই হিসেবে ১৭৬৪ জনকে তারা কাগজেকলমে স্কুটার বিক্রি করেছিল। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য হাতেগোনা কয়েকজনকে অনিয়মিতভাবে মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে দেওয়াও হয়। তবে সিংহভাগ ক্রেতাই প্রতারণার শিকার। শোরুমে থাকা ৪৭টি স্কুটার ক্রেতাদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখানো হতো।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশিরভাগ ই-স্কুটারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর হয় না। ফলে স্কুটার কিনলেও পিছনে নম্বরপ্লেট নেই। তাই ক্রেতারা দ্বিতীয়বার শোরুমে গেলেও বুঝতে পারতেন না, তাঁকে যে স্কুটারটি বিক্রি করা হয়েছে, সেই স্কুটারটিই দাঁড় করানো রয়েছে কি না। তাঁরা ভাবতেন, একই মডেল এবং একই রঙের অন্য স্কুটার দাঁড় করানো আছে। ই-স্কুটারগুলি সচল রাখার জন্য শোরুমে চার্জারও রাখা থাকত। পুলিস ৪৭টি স্কুটারের সঙ্গে ২৪টি চার্জারও বাজেয়াপ্ত করেছে। ধৃত দু’জনের মধ্যে একজনের কাছ থেকে ২ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা এবং কিছু গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রতারণার বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায়, তারও খোঁজ চলছে। বাগুইআটির শোরুম সিল করার পাশাপাশি ধৃতদের বাঁকুড়ার দু’টি শোরুম সিল করে দেওয়া হয়েছে।