Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৪৫০ বছরের পুরনো মুরুটিয়ার রথের মেলা, ভক্তদের খাওয়ানো হতো দই-চিঁড়ে

৪৫০ বছরের পুরনো মুরুটিয়ার রথের মেলা, ভক্তদের খাওয়ানো হতো দই-চিঁড়ে
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কল্লোল প্রামাণিক  করিমপুর

Advertisement

নদীয়া জেলার পুরনো রথের মেলার মধ্যে প্রথমেই আসে মুরুটিয়ার রথের মেলার কথা। শোনা যায়, আজ থেকে প্রায় ৫০০বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মুরুটিয়ার জগন্নাথ মন্দিরে শ্রীচৈতন্য রাত্রিবাস করেছিলেন। সেই মন্দিরেই স্নানযাত্রার মেলার পাশাপাশি রথযাত্রার মেলা হয়। এখানকার রথের মেলা প্রায় সাড়ে চারশো বছরের পুরনো। বিভিন্ন নথি থেকে জানা যায়, মুরুটিয়ায় স্নানযাত্রার মেলায় যে আড়ম্বর হয়, সেই তুলনায় রথের মেলার আড়ম্বর অনেক কম। তবে ধোড়াদহের সাহা জমিদারদের রথের আকর্ষণ কম নয়। 
প্রায় ৪৫০ বছর পূর্বে বর্তমান হোগলবেড়িয়া থানার হরিপুরে অধিকারীদের শ্রীকৃষ্ণরাই মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় থেকেই এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে রথের মেলা হয়ে আসছে। বহু আগে থেকেই এখানে কাঠের রথে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে বসিয়ে নগর পরিক্রমা করা হতো। সেই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে তখন বিশাল মেলা বসত। আগত প্রত্যেক দর্শনার্থীকে দই, চিঁড়ে খাওয়ানো হতো। মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল পার্শ্ববর্তী গ্রামের মুসলমানদের দ্বারা পরিবেশিত লাঠিখেলা। এই লাঠি খেলার টানে বহু মানুষ মেলায় ভিড় করতেন। এলাকার প্রবীণ মানুষজন বলেন, নদীয়া জেলার এই প্রান্তিক জনপদের মধ্যে পুরনো গ্রামগুলি ছিল মুরুটিয়া, সুন্দলপুর, যমশেরপুর, কুচাইডাঙা, তকিপুর, কেচুয়াডাঙা, হোগলবেড়িয়া, আরবপুর প্রভৃতি। এসব গ্রামের জনসমষ্টির একটি অংশ ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এই হিন্দুদের মধ্যে অবশ্য অধিকাংশই ছিলেন বৈষ্ণব। ব্রিটিশ আমল ও দেশভাগের পর এখানকার জনবসতি আরও বিস্তৃতি লাভ করে। ১৭৯০-’৯১ সাল নাগাদ মুর্শিদাবাদ সদর দেওয়ানি আদালতের প্রধান বিচারপতি এবং নসিপুর রাজবাড়ির দেওয়ান শ্যামসুন্দর সরকার সুন্দলপুরে বৃন্দাবন বিহারীর মন্দির-সহ দোলবাড়ি স্থাপন করেন। সেই সময় থেকেই এখানে দোলের মেলার পাশাপাশি রথের মেলা হয়ে আসছে। দেবদারু পাতা সজ্জিত বাঁশের রথ দোলবাড়ি সংলগ্ন মাঠে পরিক্রমা করানো হতো।   
ধোড়াদহের সাহা জমিদাররা ধর্মচর্চায় যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন।  আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর পূর্বে তাঁদের উদ্যোগে ধোড়াদহে প্রথম রথযাত্রার সূচনা হয়। সাহা জমিদার বাড়ি সংলগ্ন রথতলা বাগান থেকে সুসজ্জিত রথ বেরিয়ে গোটা সাহা পাড়া সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল পরিক্রমা করত। তাছাড়াও শতাব্দীপ্রাচীন কাল থেকে যমশেরপুর বাগচীবাড়ি, আরবপুর, কেচুয়াডাঙা প্রভৃতি স্থানে দেবদারু পাতায় সাজানো বাঁশের তৈরি রথ পরিক্রমা করত। এগুলির মধ্যে এখন করিমপুর বাজারের মেলা, মহামায়া মন্দিরের মেলা,  মহিষবাথান বাজারের মেলা, পিপুলবেড়িয়ার মেলা, হোগলবেড়িয়ার রথযাত্রা, পাট্টাবুকার রথযাত্রা উল্লেখযোগ্য। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ