Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে খোয়া গেল ৪২ লক্ষ

ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে পড়ে ৪২ লক্ষ টাকা খোয়ালেন হাওড়ার শিবপুরের বাসিন্দা এক বৃদ্ধ। ‘গ্রেপ্তার’ হয়েছেন বলে তিনি বাড়ি থেকে বেরোননি।

ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে খোয়া গেল ৪২ লক্ষ
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে পড়ে ৪২ লক্ষ টাকা খোয়ালেন হাওড়ার শিবপুরের বাসিন্দা এক বৃদ্ধ। ‘গ্রেপ্তার’ হয়েছেন বলে তিনি বাড়ি থেকে বেরোননি।  তাঁর সিম ব্যবহার করে হাওলার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল বৃদ্ধকে। এমনকি, জাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পর্যন্ত পাঠায় জালিয়াতরা। তাঁকে ‘হাউস অ্যারেস্ট’ করা হবে নাকি সিবিআই হেপাজতে নেওয়া হবে—তদন্ত শেষেই তা জানানোর ‘সিদ্ধান্ত’ দিয়েছিল প্রতারক চক্র। অভিযোগের ভিত্তিতে কেস রুজু করে তদন্তে নেমেছে শিবপুর থানা। অ্যাকাউন্টে জমা পড়া টাকার সূত্র ধরে অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।

Advertisement


অভিযোগে ওই বৃদ্ধ জানিয়েছেন, গত ২ জানুয়ারি তাঁর কাছে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। তাঁকে বলা হয় ট্রাই থেকে ফোন করা হয়েছে। তাঁর নামে একটি সিম উঠেছে। সেটি ব্যবহার করে অবৈধ লেনদেন হওয়ায় সিমটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারপরই মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি জানায়, তাঁর নামে এফআইআরও হয়েছে। একথা শুনে ওই বৃদ্ধ ভীষণ ঘাবড়ে যান। পরদিন সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বৃদ্ধকে ভিডিয়ো কল করে। সে দাবি করে, তারা একটি হাওলা লেনদেনের তদন্ত করছে। ওই সূত্রে একাধিক এটিএম কার্ড উদ্ধার করেছে। তার মধ্যে একটি কার্ড ওই বৃদ্ধের নামে ইস্যু হয়েছে। সেটি ব্যবহার করেই হয়েছে বিপুল টাকার লেনদেন। ওইসঙ্গে নথি বিক্রি বাবদ ২ কোটি টাকা কমিশনও পেয়েছেন বৃদ্ধ!  


এসব অভিযোগ শোনানোর পাশাপাশি তাঁকে একটি জাল অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট কপি পাঠানো হয়। জালিয়াতরা জানায়, তারা এই তদন্ত চালাবে দুদিন ধরে। তারপর ঠিক করা হবে সিবিআই তাকে হেপাজতে নেবে নাকি হাউস অ্যারেস্ট করে রাখবে। এই পর্বে তাঁকে বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়। এমনকি এটি নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনা করতেও বারণ করা হয় তাঁকে। বৃদ্ধ ভয় পেয়ে জালিয়াতদের সব ফতোয়াই মেনে চলেন। এরপর বৃদ্ধ জানতে চান, গ্রেপ্তারির হাত থেকে বাঁচতে কী করতে হবে তাঁকে? সিবিআই অফিসার পরিচয় দেওয়া প্রতারকরা জানায়, তারা অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠাচ্ছে। সেখানে দাবিমতো টাকা ট্রান্সফার করলেই সব সমাধান হয়ে যাবে। অতঃপর প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে ৪২ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করেন বৃদ্ধ। বস্তুত তাঁর যাবতীয় সঞ্চয় নিঃশেষ হয়ে যায় তার ফলে। 


তারপর আরো টাকার দাবিতে ফোন আসতে থাকে বৃদ্ধের কাছে। তখন অনন্যোপায় হয়ে বিষয়টি অন্যদের জানান তিনি। তখনই বুঝতে পারেন যে, জালিয়াতদের ফাঁদে পা দিয়েছেন বৃদ্ধ। এই ব্যাপারে জানুয়ারির শেষদিকে শিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। তদন্তে নেমে জালিয়াতদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য জোগাড় করেছে পুলিশ। সেটি ঘেঁটে জানার চেষ্টা হচ্ছে টাকা কোন কোন অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে। আবার সেখান থেকে তা পাচার হয়েছে আরো কত জায়গায়। প্রথমে অ্যাকাউন্টগুলির মালিকদের চিহ্নিত করতে চাইছে পুলিশ। তার ভিত্তিতেই এই গ্যাঙের ঘেঁটি ধরতে চান তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ