নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে লাগাতার বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের গালুডি ও চান্ডিল ড্যাম থেকে ৪ লক্ষ ১২ হাজার ১৫০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। সুবর্ণরেখা নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কংসাবতী নদী ফুঁসছে। তারাফেনী ও ডুলুং নদীর জল বাড়ায় একাধিক কজওয়ে জলের তলায়। টানা বর্ষণে একাধিক মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে।
ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, গালুডি ও চান্ডিল ড্যাম থেকে জল ছাড়া হয়েছে। প্রশাসন যে কোনও ধরনের পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েতগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বুধবার বিকেল থেকেই নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলার সঙ্গে ঝাড়গ্রামেও টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের জেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অফিস, আদালত, বাসস্ট্যান্ড, স্টেশন ও রাস্তা ঘাটে অন্যান্য দিনের তুলনায় লোকসংখ্যা কম দেখা যায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জামবনীর চিল্কিগড় কজওয়ের উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করে। চিল্কিগড় গিধনী রোডে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। গোয়ালমারা কজওয়ের উপর দিয়েও ডুলুং নদীর জল বয়ে যাওয়ায় গোপীবল্লভপুর-২ ও সাঁকরাইলের কিছু অংশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পথে বের হওয়া মানুষজন রাস্তার মধ্যে আটকে পড়ে চরম সমস্যার মধ্যে পড়েন। জামবনী ব্লকের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, টানা বৃষ্টি হলেই চিল্কিগড় কজওয়ের উপর জল বইতে থাকে। সেতু তৈরি না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে মানুষ সমস্যায় পড়ছেন। চুবকা এলাকার আমদই কংসাবতী ফেরিঘাটের বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করায় ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের সঙ্গে যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়ে যায়। সুবর্ণরেখা নদীতেও জল বাড়তে শুরু করেছে। গোপীবল্লভপুর, সাঁকরাইল ও নয়াগ্ৰামের বিস্তীর্ণ নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিনপুর-২ ব্লকের ভেলাইডিহা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের এঁঠালা কজওয়ের উপর এদিন সকাল থেকে জল বইতে শুরু করে। ঝাড়গ্রাম বাঁকুড়ার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হাড়দা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ঢোলভাঙা গ্ৰামের কাছে তারাফেনীর জল চলে এসেছে। টানা বৃষ্টিতে দু’টি বাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। একাধিক মাটির বাড়ির দেওয়াল হেলে পড়েছে। নদীর জল বসতি এলাকার কাছে চলে আসায় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। জেলার পঞ্চায়েত সমিতিগুলির তরফে মাটির বাড়ির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে সচেতন করা হচ্ছে। নয়াগ্ৰাম পঞ্চায়েত সমিতি চাঁদাবিলা এলাকার ক্ষতিগ্ৰস্ত মাটির বাড়ির বাসিন্দাদের ত্রিপল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। পুরসভার কাউন্সিলররা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরছেন। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নবু গোয়ালা এদিন বলেন, শহরের অনেক বাসিন্দাই মাটির বাড়িতে বসবাস করেন। বৃষ্টি না থামলে বাড়িগুলি ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা প্রস্তুত রয়েছি। বিপজ্জনক পরিস্থিতি হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। জেলার কৃষি ও উদ্যান দপ্তরের আধিকারিকরা লাগাতার বৃষ্টিতে সব্জি, ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।-নিজস্ব চিত্র