Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পালস পাওয়ার ফেন্সিংয়ে ঘিরবে গিধনির ৪ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল

পালস পাওয়ার ফেন্সিংয়ে ঘিরবে গিধনির ৪ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল
  • ৭ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে হাতির হানা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এসমস্যা মেটাতে বুধবার শহরের কেন্দ্রীয় নার্সারি ভবনে বনদপ্তরের আধিকারিকরা একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। সেখানে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। বনদপ্তর জানিয়েছে, জামবনী ব্লকের গিধনি এলাকায়  চার হাজার হেক্টর বনাঞ্চল পালস পাওয়ার ফেন্সিং দিয়ে ঘেরা হবে। ঝাড়গ্রাম ও মানিকপাড়া রেঞ্জের ১০টি গ্ৰামে ওই ফেন্সিং দেওয়া হবে। দীর্ঘকালীন পরিকল্পনা হিসেবে দু’লক্ষ চারাগাছ লাগানো হবে।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম জেলায় ঝাড়গ্রাম, খড়্গপুর, মেদিনীপুর ও রূপনারায়ণ বনবিভাগ রয়েছে। বনবিভাগের ১২টি রেঞ্জে হাতির পাল খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গ্রামে ঢুকে বাড়িঘর ভাঙচুর করছে। গত দু’বছরে ঝাড়গ্রামে হাতির হানায় ৩২জন প্রাণ হারিয়েছেন।
ঝাড়গ্রাম শহরে হাতি ঢোকা আটকাতে ইতিমধ্যেই ফেন্সিং বসানোর কাজ চলছে। জঙ্গলে ফলের গাছ, ফাইকাস গুল্ম জাতীয় গাছ লাগানো হচ্ছে। জঙ্গলে হাতির পালের উপর ট্যাকার্স টিম নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। রাত পাহারায় বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক ক্যামেরার মাধ্যমে হাতির ছবি কন্ট্রোল রুমে পৌঁছে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় নার্সারি ভবনে এসমস্ত বিষয় নিয়ে বনদপ্তরের আধিকারিকরা আলোচনা করেন। বৈঠকে শেষে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। রাজ্য সরকারের মুখ্য বনপাল সন্দীপ সুন্দরিয়াল বলেন, এদিন চারটি বনবিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। আমরা যৌথভাবে কাজ করছি। তবে বর্তমানে আমরা এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। একশ্রেণির মানুষ হাতির ছবি তুলছে, রিল বানাচ্ছে। এতে বিপদের সম্ভাবনা বাড়ছে। এসব রুখতে আইনি পদক্ষেপ করা যায় কি না-তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। তিনি জানান, ওড়িশা থেকে এরাজ্যে হাতির পাল ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এবিষয়ে ওড়িশার বনদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। বাড়িঘর ও ফসল নষ্ট রুখতে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাতির হানায় কেউ জখম হলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, ঝাড়গ্রাম ও মানিকপাড়া রেঞ্জের  জঙ্গল লাগোয়া ১০টি গ্ৰামকে পালস পাওয়ার ফেন্সিং দিয়ে ঘেরা শুরু হবে। হাতি ফেন্সিক টপকে যাওয়ার চেষ্টা করলে মাইনর সোলার বিদ্যুতের শক লাগবে। গ্রামবাসীদের বেরনোর জন্য গেটের ব্যবস্থা থাকবে। গিধনি বনাঞ্চালের বড় অংশ ওই ফেন্সিং দিয়ে ঘেরা হবে। সেখানে ১৬টি পুকুর খোঁড়া হবে। ইতিমধ্যে পাঁচটি পুকুর খোঁড়া হয়েছে। ওই বনাঞ্চলে ফলগাছ সহ দু’লক্ষ গাছের চারা রোপণ করা হবে। এজন্য দু’কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
ঝাড়গ্রাম বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, জেলার মধ্যাঞ্চলে হাতির পাল ঢুকলেই ২৪ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। দক্ষিণ অংশে কিছু খামতি রয়েছে। হাতির উপদ্রব রুখতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার সভাপতি অশোক মাহাত বলেন, হাতির সমস্যা সমাধানে  বনদপ্তরের নতুন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।                    -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ