নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের মুখে ৪০ মাসের সাসপেনশন কাটিয়ে স্বমহিমায় প্রত্যাবর্তন করলেন বিজেপি নেতা রীতেশ তিওয়ারি। ২০২২ সালের ২৪ জুন পার্টি বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে দল থেকে সাসপেন্ড কার হয়েছিল রীতেশকে। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আচমকা সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্গ বিজেপির সংগঠন সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেয়। তারপর থেকেই পার্টিতে নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেন দিলীপ ঘোষ। রাজ্য সভাপতি পদে থাকলেও বিধানসভা ভোটে তাঁর কোনও সিদ্ধান্ত কিংবা প্রস্তাব মানা হয়নি। ফলস্বরূপ ৭৭টি আসনে আটকে যায় গেরুয়া পার্টি। সুব্রতবাবুর জায়গায় রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে আসেন অমিতাভ চক্রবর্তী। যিনি সহ-সংগঠন সম্পাদক পদে ছিলেন।
আরএসএস মনোনীত এই নেতার বিরুদ্ধে বঙ্গ বিজেপি তৎকালীন নেতৃত্বের একটা বড় অংশ একাধিক অভিযোগ আনে। খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর কলকাতায় পোর্ট ট্রাস্টের গেস্ট হাউসের সামনে অমিতাভ চক্রবর্তীর অপসারণের দাবিতে কর্মসূচি আয়োজন করেন। তাতে শামিল হয়েছিলেন রীতেশ সহ বহু বিজেপি নেতা। কিন্তু কোপ পড়ে রাহুল সিনহা-শমীক ভট্টাচার্য ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন এই রাজ্য সহ সভাপতির ঘাড়ে। এমনকি, সেই সময় শমীকবাবুও পার্টিতে কার্যত উপেক্ষিত ছিলেন। তবে সময় বড় নিষ্ঠুর। রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার পর বঙ্গ বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। সোমবার সেই শমীকবাবুর নির্দেশে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর রীতেশ তিওয়ারির সাসপেনশন উঠল। যদিও অমিতাভ চক্রবর্তী সংগঠন-সম্পাদক পদেই রয়েছেন। ফলে অমিতাভ ও তাঁর সঙ্গীরা প্রবল চাপে পড়ে গেল। এ নিয়ে রীতেশ তিওয়ারি বলেন, আমি পার্টির অনুগত কর্মী। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে মাথা পেতে নেব।