নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: প্রায় ৪০০বছর আগে থেকেই কালীপুজোর জন্য গোকর্ণের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। মুর্শিদাবাদ জেলার এই প্রাচীন জনপদে শ্যামরায় কালীর পুজোর দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে। দেবীর মাহাত্ম্যের কথা শুনে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা দীপাবলিতে গোকর্ণে ভিড় করেন। প্রতিবছর এই গ্রামে ৪০টির বেশি কালীপ্রতিমার পুজো হয়। শ্যামরায় কালীর পুজোর পরই এসমস্ত কালীপুজো শুরু হয়। সেকারণে জেলায় কালীগ্রাম নামে পরিচিত গোকর্ণ।
প্রায় ৪০০বছর আগে এই গ্রামে একটি শ্মশান ছিল। সেখানে গোকর্ণের বাসিন্দা হটেশ্বর রায় শ্মশানকালী পুজো শুরু করেছিলেন। গোকর্ণ গ্রামের পশ্চিমদিকে ঘোষকুঁড়ো পুকুরপাড়ের দিকে শ্মশানে রত্নবেদীর উপর পুজো হতো। তখন এই প্রতিমাকে হাটুরায় কালী বলা হতো। পরে এলাকার অপর বাসিন্দা শ্যামাচরণ রায় স্বপ্নাদেশ পেয়ে ওই প্রতিমা নিজের বাড়িতে স্থাপন করে কালীপুজো শুরু করেন। তারপর থেকে ওই মাতৃমূর্তিকে শ্যামরায় কালী নামেই চেনেন স্থানীয়রা।
১৯৯২সালে গোকর্ণের উপর দিয়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় বয়ে গিয়েছিল। গ্রামের বহু পুরনো বাড়ি এখনও সেই ঝড়ের চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে। কথিত আছে, সেই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়েও শ্যামরায় কালী মন্দির অক্ষত ছিল। মন্দিরে থাকার গাছের একটি পাতাও ঝরে পড়েনি। তারপর থেকেই দেবীমাহাত্ম্য আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়ে। সেজন্য দেশের নানা প্রান্তের মানুষ এখানে পুজো দিতে আসেন। অনেকেই পাঁঠাবলি দেওয়ার মানত করেন। প্রতিবার কালীপুজোর রাতে প্রায় শতাধিক পাঁঠাবলি হয়। এবারও অন্তত দেড়হাজার মানুষ এখানে পুজো দিতে ভিড় জমাবেন।
বহরমপুর-কান্দি রাজ্য সড়কের পাশে সরু গলি দিয়ে এই গ্রামে ঢুকতে হয়। কালীপুজোর সময় পাঁচরকম ফল, মিষ্টি, পাঁচতরকারি, চিঁড়ে, লুচি, আটরকম ভাজা দিয়ে দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। সেইসঙ্গে বিশেষ মাছের ভোগ দেওয়া হয়। এই মন্দিরে নিত্যপুজো হয়। শনি ও মঙ্গলবার মন্দিরে বেশ ভিড় হয়।
কার্তিক মাসে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। দীপান্বিতা অমাবস্যায় গ্রামে ৪০টি পুজোর আয়োজন হয়। প্রায় প্রতিটি গলির আঁকেবাঁকে দু’একটি করে কালীমূর্তির পুজো হয়।
শ্যামরায় কালী মন্দিরের সেবাইত পার্থসারথি মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রায় ৪৫বছর ধরে আমি এখানে পুজো করছি। প্রতিবছর কার্তিক মাসে দীপান্বিতা অমাবস্যায় জাঁকজমকের সঙ্গে পুজো হয়। বলিদান, চণ্ডীপাঠ, ভোগরাগ ও প্রসাদ বিতরণ হয়ে থাকে। প্রচুর পাঁঠাবলি হবে।
মায়ের কাছে শুদ্ধ মনে প্রার্থনা করলে ফল মেলে। যাঁরা কালীপুজোর সময় আসতে পারেন না, এমন বহু ভক্ত নিত্যপুজো ও ভোগ দিতে আসেন। সারাবছরই এখানে বলি হয়।