সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: ভুয়ো সমীক্ষায় এসে নকশালবাড়িতে আটক ত্রিপুরার তিন যুবক। আটক জলপাইগুড়ির আরএক যুবকও। রবিবার উত্তর কোটিয়াজোতে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষায় এসেছিল এই টিমটি। সেখানে সমীক্ষার নাম করে বিজেপির হয়ে প্রচারের অভিযোগ ওঠে। বাসিন্দাদের প্রভাবিত করার মতো অভিযোগও সামনে আসে। স্থানীয়দের সন্দেহ হতেই জনপ্রতিনিধিদের খবর দেন। নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিত্ ঘোষের নেতৃত্বে ওই চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা। কথায় অসঙ্গতি মেলায় নকশালবাড়ি থানার পুলিসকে খবর দেওয়া হয়। পুলিস চারজনকে আটক করে। পুলিস জানিয়েছে, বিজয় দাস, বিজিত শীল, জয় দেবনাথ ও জয়দ্বীপ রায়কে আটক করা হয়েছে। প্রথম তিনজন ত্রিপুরার বাসিন্দা। অপরজন ফাটাপুকুরের।
অভিযোগ, এই চার যুবক দু’দিন ধরে নকশালবাড়ি বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন পরিষেবা নিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। বিধানসভার বিজেপি জনপ্রতিনিধির পরিচয় দিয়ে প্রভাবিত করেছেন বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল ঠাকুর বলেন, দুই মিনিটের সমীক্ষার নাম করে আমার থেকে ব্যক্তিগত তথ্য সব জেনে নিয়ে। পরিষেবায় কি কি পাচ্ছি, বিজেপির জনপ্রতিনিধিকে পরিচয় জানি কি না, তা জেনে নেন। সবটা শুনে সন্দেহ হয়। স্থানীয় পঞ্চায়েতকে জানাই।
আটক যুবকদের মধ্যে বিজিত শীল বলেন, ২০১৯ সাল থেকে হরিয়ানার এক কোম্পানির হয়ে বিভিন্ন রাজ্যে বিধনসভা ভোটের আগে সমীক্ষা করছি। মাটিগাড়া নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য আটজনের একটি দল বিভক্ত হয়ে দিন দুয়েক ধরে সমীক্ষা চালু হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কোনও তথ্যই দিতে পারেনি আটক যুবকরা। এমনকি তাদের পরিচয় পত্রটি দিন দুয়েক আগে তৈরি। তাতেও যথাযথ কাঠামো মানা হয়নি।
এদিকে হরিয়ানা ও ত্রিপুরা বিজেপির প্রভাবিত রাজ্য। সেখান থেকে এসে বাংলায় অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ নকশালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের। তিনি বলেন, ভুয়ো সংস্থার পরিচয় দিয়ে ত্রিপুরার কিছু যুবক সমীক্ষার নামে পাড়ায় পাড়ায় যাচ্ছে। তাদের জেরা করা হলে জানতে পারি পুরোটাই ভুয়ো। বিষয়টি বিডিও ও ব্লক সভাপতিকে জানিয়েছি। অভিযুক্তদের পুলিসে হাতে তুলে দিয়েছি।
এনিয়ে মাটিগাড়া নকশালবাড়ি বিধায়ক বিজেপির আনন্দময় বর্মন বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমীক্ষা আমার জানা নেই। সমীক্ষা দল থেকে করা হয় না। বিধানসভার আগে অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা হয়। যা দলীয় কর্মীরা করবেন।
তবে ভোটের আগে এক্সিট পোলের অনেক সংস্থা রয়েছে। কেউ হয়তো করাচ্ছে। তা নিয়ে রাজনৈতিক দলের কোনও সম্পর্ক নেই। আসল সংস্থার হয়ে সমীক্ষা করলে তা করতেই পারে। যদি ভুয়ো হয় তা নিয়ে পুলিস ব্যবস্থা নেবে।