


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে প্রথমবারের রথযাত্রা ঘিরে হাজার হাজার ভক্তের বিপুল উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তদের ঢল নেমেছিল। তাঁরা জগন্নাথ মন্দির দর্শনের সঙ্গে প্রণামী বাক্সে মুক্তহস্তে দান করেছেন। তাতেই রথযাত্রায় মন্দিরের বিভিন্ন প্রণামী বাক্সে মোট ৪ লক্ষ ২০হাজার টাকা জমেছে। সোমবার বিকেলে সবকটি প্রণামী বাক্স খোলা হয়। টাকা গোনার পর প্রশাসন জানিয়েছে, রথে মোট ৪লক্ষ ২০হাজার টাকা প্রণামী পড়েছে। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী বলেন, রথযাত্রায় দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে থাকা বিভিন্ন প্রণামী বাক্সে মোট ৪লক্ষ ২০হাজার টাকা জমা হয়েছে।
গত ২৭জুন দীঘার প্রথম রথযাত্রায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের পথ পরিষ্কার করেন। তারপর রথের রশিতে টান দেন। তাঁর সঙ্গে হাজার হাজার ভক্ত রথের রশিতে টান দিয়ে জগন্নাথ প্রভুকে মাসির বাড়িতে নিয়ে যান। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকা সত্ত্বেও রথের দিন সকাল থেকেই জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। নবদ্বীপ, মায়াপুরের মতো ধর্মীয় স্থানের মতোই ভক্তদের কপালে ছিল তিলক। উত্তরে আলিপুরদুয়ার থেকে দক্ষিণে নামখানা সারা রাজ্য থেকে ভক্তরা এসেছিলেন। তাঁদের অনেকেই প্রথমবার দীঘা জগন্নাথ মন্দির দর্শন করেন। মন্দিরের কারুকাজ দেখে চোখ আটকে যায়। জগন্নাথদেবকে প্রণাম করে বাক্সে অর্থ দান করেন।
গত ৩০এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যতিথিতে দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন হয়। তারপর একটি প্রণামী বাক্স রাখা হয়েছিল। কিন্তু, টাকা ঢোকানোর জন্য সেই বাক্সের কাছে ভক্তদের ভিড় লেগে থাকায় অনেকে দান করতে পারছিলেন না। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর এককালীন আরও আটটি প্রণামী বাক্স রাখা হয়। ওই বাক্স মন্দিরের গর্ভগৃহে বিভিন্ন জায়গায় রাখা আছে। ভক্তরা লাইন দিয়ে যাওয়ার সময় দেখানে টাকা ঢুকিয়ে দেন। এবার মাসির বাড়িতেও একটি প্রণামী বাক্স নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সোমবার সবকটি বাক্স খুলে টাকা গোনা হয়। তাতে মোট ৪লক্ষ ২০হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছে। আগামী ৫জুলাই উল্টোরথ। তার আগে পর্যন্ত জগন্নাথ মন্দির ও মাসির বাড়িতে ভক্ত সমাগম অনেকটাই বেড়েছে। বিকেল ৪টের পর মন্দিরে ঢোকার জন্য অনেকটাই লাইন পড়ছে। সন্ধ্যার সময় সেই লাইন আরও বেড়ে যাচ্ছে। রাত ৮টায় মন্দিরে ঢোকার গেট বন্ধ করা হয়। তারআগে মন্দিরের ভিতর যাওয়ার জন্য রোজ হুড়োহুড়ি পড়ছে। এমনকী, গেট বন্ধ হওয়ার পরও অনেক ভক্ত ভিতরে ঢোকার জন্য কাকুতিমিনতি করেন। যদিও প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী রাত ৮টার পর কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মন্দির থেকে ভক্তরা বেরিয়ে যাওয়ার পর বেরনোর গেট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
রথযাত্রার পর অনেকেই মন্দির ঘুরে দেখার পর সোজা মাসির বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছেন। সেখানে জগন্নাথ দেবকে দেখার পর সি-বিচ বরাবর রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে সমুদ্র দর্শন করছেন। মাসির বাড়ির গেটও একই সময় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাত ৮টায় গেট বন্ধ করা হচ্ছে। মাসির বাড়ির বাক্সে প্রণামী দিচ্ছেন ভক্তরা।