Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাতির উপদ্রবে ফলনে ক্ষতি, কালচিনির ১১৩০ আলু চাষিকে ৪ কোটি ক্ষতিপূরণ

হাতির উপদ্রবে ফলনে ক্ষতি, কালচিনির ১১৩০ আলু চাষিকে ৪ কোটি ক্ষতিপূরণ
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: একদিকে ফলন কম। দোসর হাতির উপদ্রব। এই পরিস্থিতিতে সময়ের আগেই বাধ্য হয়ে অপুষ্ট আলু জমি থেকে তুলতে হয়েছে। এসবের জেরে আলু চাষে আগ্রহ হারাতে বসেছিলেন কালচিনির চাষিরা। বিপদে পড়া চাষিদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। কালচিনি ব্লকের ক্ষতিগ্রস্ত ১১৩০ আলু চাষিকে ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে বাংলা সহায় বীমার আওতায় আনা হয়। সোমবার কালচিনি ব্লকের ফসল বীমার আওতায় থাকা ওই ১১৩০ আলু চাষির হাতে মোট ৪কোটি ৩ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩০৮ টাকা তুলে দিল জেলা প্রশাসন। 

Advertisement

আলিপুরদুয়ারে ছ’টি ব্লকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয় ফালাকাটা ব্লকে। প্রায় ৮৩০০ হেক্টর জমিতে। তারপরই রয়েছে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক। এই ব্লকে আলু চাষ হয় ৫৮০০হেক্টর জমিতে। আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকে ৩৭০০, কুমারগ্রামে ২১০০ এবং মাদারিহাট ব্লকে১৬০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। আর সবচেয়ে কম আলু চাষ হয় কালচিনি ব্লকে। এই ব্লকে আলু চাষ হয় মাত্র ১০০হেক্টর জমিতে। চা বাগান ও বনভূমি এলাকা বেশি থাকায় কালচিনিতে আলু চাষের এলাকা অত্যন্ত কম।
কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর, কালচিনি বাদে জেলার পাঁচটি ব্লকে গড়ে হেক্টর প্রতি আলু উৎপাদন হয় ৩৪হাজার কেজি। সেখানে কালচিনি ব্লকে হেক্টর প্রতি আলু উৎপাদন মাত্র ১০হাজার কেজি। এই ব্লকে আলু উৎপাদনের হার কেন এতটা কম? কারণ হিসাবে জানা গিয়েছে, হাতির উপদ্রবের ভয়ে কালচিনির চাষিরা জমি থেকে অপুষ্ট আলুই তুলে নিতে বাধ্য হন। ফলনের ওজনে মার খান চাষিরা। তা ছাড়া হাতিই যদি গাছ নষ্ট করে, তাহলে আর আলু গাছে প্রয়োজনীয় সার দিয়ে হবে কি? কালচিনির আলু চাষিদের মধ্যে এই মানসিকতাও কাজ করছে। ফলে প্রয়োজনীয় সারের অভাবে আলু ভালো হয় না। এই প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্বেও সরকার চায় না কালচিনিতে আলু চাষ বন্ধ হয়ে যাক। তাই কালচিনির ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের আলু চাষে উৎসাহ দিতেই সরকার তাঁদের ফসল বীমার আওতায় এনেছে। 
আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক আর বিমলা বলেন, রাজ্যের নির্দেশে আলু চাষে ক্ষতিগ্রস্ত কালচিনির চাষিদের ফসল বীমার আওতায় হয়েছিল। সোমবার কালচিনির ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ