


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বহুচর্চিত সন্দেশখালিতে ইডির উপর হামলার ঘটনায় বড়োসড়ো পদক্ষেপ নিল রাজ্য পুলিশ। সন্দেশখালির ‘ত্রাস’ শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ দুই তৃণমূল নেত্রী সহ মোট চারজনকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করল বসিরহাট জেলা পুলিশ। ধৃত দুই নেত্রী হলেন বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভানেত্রী তথা সন্দেশখালি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সবিতা রায় ও তৃণমূলের ব্লক সভানেত্রী ও একই পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মিঠু সর্দার। একইসঙ্গে শাহজাহানের শাগরেদ বলে পরিচিত হাফিজুল খান ও মাজিরানা বিবিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে গিয়েছিল ইডি। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় তালা ভাঙার চেষ্টা শুরু হয়। তখনই আচমকা হামলা চালানো হয় ইডি আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর। অভিযোগ, হামলাকারীদের ভিড় থেকেই ওঠে শেখ শাহজাহানের নামে স্লোগান। আহত হন একাধিক ইডি আধিকারিক। ভাঙচুর করা হয় গাড়িও। এরপর সন্দেশখালি দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শাহজাহান ঘনিষ্ঠদের বাড়ি, অফিস ও পোলট্রি ফার্মে চলে ভাঙচুর। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ইডির উপর হামলার ৫৫ দিন পর মিনাখাঁ থেকে শেখ শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২৪ সালের সেই হামলার ঘটনায় বহু অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক ছিল। রাজ্যে পালবদল হতে একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে সক্রিয় হয়েছে বসিরহাট জেলা পুলিশ। এবার শাহজাহান ঘনিষ্ঠ দুই তৃণমূল নেত্রী সহ মোট চারজন গ্রেপ্তার হওয়ায় ফের নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সন্দেশখালিতে। তদন্তকারীদের মতে, হামলার নেপথ্যে থাকা গোটা নেটওয়ার্ক ও জেলবন্দি অবস্থায় থাকা শাহজাহানের প্রভাব কতটা সক্রিয় ছিল, এখন সেদিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে, নতুন করে যে সূত্র মিলেছে, তাতে আরও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। সূত্রের দাবি, কয়েকদিন আগে প্রেসিডেন্সি জেলে থাকা আসামিদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়। তখন শাহজাহানের কাছ থেকেও একটি মোবাইল উদ্ধার হয়। সেই ফোন ঘেঁটে পুলিশ জানতে পেরেছে, সবিতার নাম। জেলে বসেই সবিতা রায়ের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রাখত শাহজাহান। শুধু রাজনৈতিক যোগাযোগ নয়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সবিতার ফোন মারফত কথা বলত সে। কয়েকমাস আগে সন্দেশখালিতে ভোলানাথ ঘোষের ছেলেকে গাড়ির ধাক্কায় খুনের ঘটনায় সবিতাকে জেল থেকেই গোটা ছক বলেছিল শাহজাহান। পুলিশ জেনেছে, সবিতার ফোন মারফতই ওই খুনের ঘটনার ছক সাজিয়েছিল শাহজাহান। পুলিশ জানিয়েছে, ইডির উপর হামলা মামলায় ধৃতদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পরে এলাকায় অশান্তি ও হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন দত্তপুকুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মান্তু সাহা। এদিন ধৃতকে বারাসত আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ২০২১ সালের ওই হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এদিন রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বারাসত পুরসভার সিআইসি সদস্য (পূর্ত) অরুণ ভৌমিককে। তাঁকে বারাসত থেকেই পাকড়াও করেছে পুলিশ।