নয়াদিল্লি: বছরে ২ কোটি চাকরি থেকে নানা ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানের বার্তা! সময় যতই এগিয়েছে, সবই শুধু গালভরা প্রতিশ্রুতি হয়ে থেকে গিয়েছে। উল্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত’ ভারতে লাফিয়ে বেড়েছে বেকারত্ব। আগেই এনিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী দলের নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এবার সেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিল সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমির (সিএমআইই) রিপোর্ট। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র গত মার্চ মাসেই দেশজুড়ে চাকরি গিয়েছে ৪২ লক্ষের। গত বছর নভেম্বরের পর যা সর্বনিম্ন। তবে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য উঠে এসেছে বেকারত্বের পরিসংখ্যানে। সেটা হল— রোজগারের সুযোগ লাগাতার কমছে। তাই হতাশায় কাজ খোঁজাই ছেড়ে দিচ্ছে দেশের যুবসমাজ। দিন কয়েক আগে সুপ্রিম নির্দেশে বাংলায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে, যা নিয়ে মন্তব্য-সমালোচনার অন্ত নেই। কিন্তু একমাসে ৪২ লক্ষের চাকরি যাওয়ার বিষয়টিও রীতিমতো উদ্বেগের।
সিএমআইই-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে হ্রাস পাচ্ছে ‘লেবার ফোর্স’। কী এই লেবার ফোর্স? সহজ কথায়, এটি হল দেশে কর্মরত লোকজনের সংখ্যা। ফেব্রুয়ারি মাসে তা ছিল ৪৫ কোটি ৭৭ লক্ষ। কিন্তু মার্চে সেই ‘লেবার ফোর্স’ কমে হয়েছে ৪৫ কোটি ৩৫ লক্ষ। অর্থাৎ একমাসের ফারাকে চাকরিহারা হয়েছেন ৪২ লক্ষ মানুষ। এর পাশাপাশি দেশের বেকারত্ব নিয়েও একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে দেশে ৩ কোটি ৮৬ লক্ষ মানুষ কর্মহীন ছিলেন। মার্চ মাসে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৩ কোটি ৫০ লক্ষ। এই তথ্য দেখলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে, একমাসে বেকারত্ব কমেছে ৩৬ লক্ষ। ৪২ লক্ষের চাকরি হারানোর সময়ে এ তো সুখবর! দেশে কর্মসংস্থান হচ্ছে। কিন্তু আদৌ তা নয়। সমীক্ষক সংস্থাটির দাবি, কাজ পাওয়া তো দূর অস্ত। বারবার খালি হাতে ফিরতে ফিরতে তাঁরা চাকরির আবেদন করাই ছেড়ে দিয়েছেন। তাই দেশের কর্মহীনদের তালিকাতেই আর গোনা হচ্ছে না তাঁদের। এমনকী ২০২৪ সালের তুলনায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় নিয়োগের হারও কমেছে প্রায় দেড় শতাংশ।
দেশের আইআইটিগুলিতে পর্যন্ত প্লেসমেন্টের হার ১০ শতাংশ হারে কমেছে। সম্প্রতি সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্টে উঠে এসেছে ২০২১-২২ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এই করুণ ছবি। গত পাঁচ বছরে ৭৫ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র-ছোট ও মাঝারি শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রাজ্যসভায় এই তথ্য তুলে ধরেছেন খোদ এমএসএমই দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী। সংস্থাই বন্ধ হতে শুরু করলে চাকরি আসবে কোথা থেকে? ইতিমধ্যে এই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিরোধীরা।