Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সূর্যের চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের থ্রিডি ম্যাপিং, নজির বাঙালি জুটির

সূর্যকে আরও ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে একটা বড় ধাপ এগোল ভারত। আর তার পিছনে রয়েছে আইআইটি কানপুরের দুই বাঙালির ভূমিকা।

সূর্যের চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের থ্রিডি ম্যাপিং, নজির বাঙালি জুটির
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সূর্যকে আরও ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রে একটা বড় ধাপ এগোল ভারত। আর তার পিছনে রয়েছে আইআইটি কানপুরের দুই বাঙালির ভূমিকা। একজন পিএইচডি গবেষক সৌম্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়, আরেকজন তাঁর রিসার্চ গাইড অধ্যাপক গোপাল হাজরা। বিশ্বে প্রথমবার সূর্যের চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে ফেলেছেন তাঁরা। ফলে, সৌরঝড় থেকে শুরু করে সৌরকলঙ্ক নিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই আর আন্দাজের উপর হাঁটতে হবে না বিজ্ঞানীদের। একেবারে সঠিক পরিমাণ এবং সময় বাতলে দেওয়া যাবে এই আবিষ্কারের ফলে। আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক পত্রিকা দি অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল লেটার্স গুরুত্ব দিয়ে গবেষণাটি ছেপেছে।

Advertisement

সাধারণভাবে সূর্যের বহিস্তর নিয়েই যাবতীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করে থাকে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা সংস্থাগুলি। তবে, এর অন্তঃস্থল নিয়ে তথ্য খুব সীমিত বললেও কম বলা হয়। আর সেখানেই সফল হয়েছেন এই বাঙালিদ্বয়। গোপাল হাজরা জানান, সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করে চলা নাসার সোহো এবং এসডিও স্যাটেলাইটের (উপগ্রহ) ৩০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে সেটিকে একটি মডেলে ফেলে ম্যাপিং করা হয়েছে। এই স্যাটেলাইটগুলি সূর্যের বহিস্তর নিয়েই কাজ করে। দীর্ঘ সময়ে বহিস্তরের তথ্য থেকেই উঠে এসেছে সূর্যের কোর এলাকার ছবি। আইআইটি কানপুরের নিজস্ব সুপার কম্পিউটার পরমসংগনক এক্ষেত্রে খুবই কাজে এসেছে। গিগাবাইট গিগাবাইট আকারের ছবি, ডেটা তাছাড়া বিশ্লেষণ করা যেত না। আমার গবেষক সৌম্যজিৎ একটানা পড়ে না থাকলে এটি সম্ভব হত না।’

এই কাজের বাস্তব ক্ষেত্রে ঠিক কী ভূমিকা রয়েছে? অধ্যাপক হাজরা বলেন, ‘ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেস এক্সের লঞ্চ করা একাধিক স্যাটেলাইটও এই সৌরচুম্বকীয় ক্ষেত্রের গণনায় ভুলের কারণেই কক্ষভ্রষ্ট হয়েছিল। এছাড়া ইতিমধ্যেই অরবিটে থাকা স্যাটেলাইটও সৌরঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতি ১১ বছরে সৌরঝড় সবচেয়ে বেশি বাড়ে। এ ধরনের মহাজাগতিক বিষয়গুলির পরিমাণ এবং সম্ভাব্য সময় আরও বেশি করে বোঝা যাবে। সূর্যের অভ্যন্তরে যে প্লাজমাগুলির ক্রিয়াকলাপে যে ডায়নামোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে বিদ্যুৎ তৈরি হয়, সেটাই সৌরচুম্বকের উৎস। এই মডেলে সেটাই সঠিকভাবে পরিমাপ করা যাচ্ছে।’ সৌম্যজিৎবাবুও এরকম বিশ্বমানের বিজ্ঞান পত্রিকায় তাঁর কাজ প্রকাশ করতে পেরে খুবই খুশি। তাঁর আশা, আগামী কয়েকবছরে সূর্যের অনেক রহস্যই বিজ্ঞানীদের নাগালে চলে আসবে। এর ফলে বিমানের রেডিয়ো যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে।

 ছবি আইআইটি কানপুরের সৌজন্যে প্রাপ্ত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ