Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মধ্যপ্রদেশের গোন্ড আর্টের থ্রিডি ইনস্টলেশন, সল্টলেক এফডি ব্লকের পুজোয় চমক

মাটির উনুনে গরম ভাত ফোটে গ্রামের বহু বাড়িতে। খড়, বাঁশ, শালপাতা, নারকেল ছোবড়া, তালপাতা ইত্যাদি জ্বালানি হিসাবে জমিয়ে রাখেন অনেকে।

মধ্যপ্রদেশের গোন্ড আর্টের থ্রিডি ইনস্টলেশন, সল্টলেক এফডি ব্লকের পুজোয় চমক
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অলকাভ নিযোগী, বিধাননগর: মাটির উনুনে গরম ভাত ফোটে গ্রামের বহু বাড়িতে। খড়, বাঁশ, শালপাতা, নারকেল ছোবড়া, তালপাতা ইত্যাদি জ্বালানি হিসাবে জমিয়ে রাখেন অনেকে। সেইরকম জ্বালানি দিয়ে তৈরি হচ্ছে পুজোর মণ্ডপ। মূল আকর্ষণ, সেইসব জিনিসের উপর মধ্যপ্রদেশের গোন্ড আর্টের থ্রিডি ইনস্টলেশন। আদিবাসীদের বাড়ির দেওয়াল, শিল্পীদের ক্যানভাসের বাইরে এই বিরাট মাপের থ্রিডি ইনস্টলেশন এই প্রথমবার তৈরি হচ্ছে বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। তাই মণ্ডপে ঢুকলেই প্রতি মোড়কে থাকবে চমক। সল্টলেকের এফ ডি সর্বজনীন দর্শনার্থীদের জন্য এবার এমনই অভিনব থিমের আয়োজন করছে।

Advertisement

থিম ও অভিনবত্বে প্রতিবারই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে সল্টলেকের এফ ডি ব্লকের পুজো। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জোরকদমে কাজ চলছে। বেশিরভাগ কাজ প্রায় শেষ। প্রস্তুতির দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে এই পুজো। এফ ডি ব্লকের মাঠে‌ ঩তৈরি হয় মণ্ডপ। তাই পুজো দেখা, প্রতিমা দর্শনের সঙ্গে বাড়তি পাওনা পুজোর মেলা। পরিবারের লোকজনদের নিয়ে কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়ার সুযোগ থাকে। এবার এই পুজো কমিটির থিমের নাম ‘নকশি কণার মাঠ’। শুনতে অন্যরকম মনে হলে এবার পৌঁছতে হবে সরাসরি মণ্ডপে। কারণ সেখানে গোটা মণ্ডপজুড়ে গোন্ড আর্টের নানা সাইজের ডট। ডট অর্থাৎ কণা। তাই নকশি কণার মাঠ গড়ে উঠছে। 
জ্বালানির নানা সামগ্রী তো আছেই, সেই সঙ্গে নানা ধরনের ঝুড়ি, বেত, মাটির কলসি, খোলামকুচি সহ নানা প্রাকৃতিক জিনিসপত্র ব্যবহার করা হয়েছে মণ্ডপে। থিমের মণ্ডপের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে ভিতরে থাকছে থিমের প্রতিমা। সবই ইকো ফ্রেন্ডলি। মণ্ডপের ভিতর অসংখ্য শুকনো শালের পাতা। তাতে আঁকা হয়েছে নানা রঙের শতশত পাখি। প্রতিমার মাথার উপর ঝাড়বাতিতে থাকছে চমক। সোনালি ধানের শিষ দিয়ে বানানো হয়েছে সেই ঝাড়বাতি। যা অভিনব। শিল্পী প্রশান্ত পালের জাদুতে ফুটে উঠছে মণ্ডপ। তিনি বলেন, মধ্যপ্রদেশের গোন্ড আর্ট নিয়েই আমার এই কাজ। তবে এই গোন্ড আর্ট এতকাল পর্যন্ত আদিবাসীদের বাড়ির দেওয়ালেই আঁকা হত। কিছু শিল্পী ক্যানভাসে এঁকেছেন। কিন্তু এই প্রথমবার গোন্ড আর্টের থ্রিডি ইনস্টলেশন হচ্ছে। পুজো কমিটির তীর্থঙ্কর বসাক বলেন, মণ্ডপে ঢুকলেই এবার সম্পূর্ণ অন্য স্বাদ পাবেন দর্শনার্থীরা। এই প্রথমবার প্রতিমার স্থান বদল করা হয়েছে। থিমের সঙ্গে বজায় রেখেই এই উদ্যোগ। সেই সঙ্গে সরাসরি মূল মণ্ডপে প্রবেশ করেই মায়ের দর্শন পাওয়া যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ