Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

স্রেফ হাইকোর্টের বিচারপতির পদ শূন্য ৩৫৭

স্রেফ হাইকোর্টের বিচারপতির পদ শূন্য ৩৫৭
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে থাকা হাইকোর্টগুলিতে পর্যাপ্ত বিচারপতি নিয়োগ হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় সরকারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, হাইকোর্টগুলিতে বিচারপতিদের শূন্যপদের পরিস্থিতি কী? সরকার কি সুপ্রিম কোর্ট থেকে কোনও সুপারিশ পেয়েছে যাতে দ্রুত এই বিপুল শূন্যপদ পূরণ করা হয়? কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ২৪ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন রা঩জ্যের হাইকোর্টগুলিতে অনুমোদিত পদের সংখ্যা যেখানে ১ হাজার ১২২, সেখানে পদে থাকা বিচারপতির সংখ্যা মাত্র ৭৬৫। অর্থাৎ দেশজুড়ে ৩৫৭ বিচারপতি পদ শূন্য হয়ে রয়েছে। প্রসঙ্গত এই তথ্য ও পরিসংখ্যান শুধুমাত্র হাইকোর্টের। স্বাভাবিকভাবেই নিম্ন আদালতগুলিতে বিচারকের শূন্যপদের সংখ্যাও সমানভাবে কম বলেই মনে করা হচ্ছে। 

Advertisement

কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ১৬৮টি পদ পূরণের জন্য যে সুপারিশ তথা প্রস্তাব করা হয়েছে, বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত কলেজিয়ামে তা আটকে রয়েছে। আর ১৮৯টি পদের ক্ষেত্রে হাইকোর্টগুলির কলেজিয়ামের পক্ষ থেকে কোনও প্রস্তাব অথবা সুপারিশ আসেনি। বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া সংবিধানের ২১৭ এবং ২২৪ নং ধারা অনুযায়ী হয়ে থাকে। ১৯৯৮ সালের মেমোরেন্ডার অফ প্রসিডিওর অনুযায়ী, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং সবথেকে সিনিয়র দুই বিচারপতির সম্মিলিত কমিটি বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টের কাছে পাঠায়। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবও  পাঠানো হয় সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামে। পরামর্শ প্রদানের জন্য। রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার, হাইকোর্ট কলেজিয়াম এবং সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়াম। সুপারিশকৃত নাম থেকে বিচারপতির নাম বাছাই করা স্বাভাবিকভাবেই জটিল প্রক্রিয়া। 
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার বাসভবনে উদ্ধার হয়েছে বান্ডিল বান্ডিল টাকা। সেই ইস্যুতে ফের শুরু হয়েছে বিচারপতি নিয়োগ এবং বিচার ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে জোরদার চর্চা। রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার কংগ্রেস এমপি রাজীব শুক্লা স্পষ্ট বলেন, ২০১৪ সালে বিচারবিভাগীয় নিয়োগ সংক্রান্ত  কমিশন গঠনের আইন সুপ্রিম কোর্ট নস্যাৎ করে। এখন সরকারের উচিত অন্তত একটি বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিল আনা। যেসব ঘটনা ঘটছে, তাতে দেশবাসী চাইছে বিচারবিভাগের পরিকাঠামো উন্নত হোক। অন্যদিকে এদিন আইন মন্ত্রকের জবাব থেকেও স্পষ্ট যে, মামলার পাহাড় জমছে, অথচ দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে রাজ্যে বিচারপতিদের শূন্যপদ পূরণ করা হচ্ছে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ