Bartaman Logo
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরিযায়ীর সংখ্যা কমাতে জেলার ৩৫৩টি গ্রাম ‘মডেল ভিলেজ’

পরিযায়ীর সংখ্যা কমাতে মালদহে ৩৫৩টি গ্রামকে ‘মডেল ভিলেজ’ হিসাবে গড়ে তোলা হবে। এরমধ্যে রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মুর এলাকা হবিবপুর ব্লকে মডেল ভিলেজের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে ৬৮টি গ্রামকে।

পরিযায়ীর সংখ্যা কমাতে জেলার ৩৫৩টি গ্রাম ‘মডেল ভিলেজ’
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: পরিযায়ীর সংখ্যা কমাতে মালদহে ৩৫৩টি গ্রামকে ‘মডেল ভিলেজ’ হিসাবে গড়ে তোলা হবে। এরমধ্যে রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মুর এলাকা হবিবপুর ব্লকে মডেল ভিলেজের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে ৬৮টি গ্রামকে। বিভিন্ন দপ্তরের সহায়তায় ওইসব গ্রামের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোই মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে। সেক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আদৰ্শ গ্রামের বাসিন্দারা যাতে নিজেদের এলাকাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, পেটের টানে যাতে তাঁদের ভিনরাজ্যে কাজে যেতে না হয়, সেটা নিশ্চিত করাই অন্যতম লক্ষ্য প্রশাসনের। এক্ষেত্রে ফুড প্রসেসিং সেন্টার, জৈব চাষ, প্রাণীপালন ও হস্তশিল্পের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

সোমবার মন্ত্রী জোয়েল মুর্মু বলেন, জেলায় ৩৫৩টি গ্রামকে মডেল ভিলেজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য মূলত পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলিকে বাছাই করা হচ্ছে। মডেল ভিলেজগুলির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে পেটের তাগিদে সেখানকার বাসিন্দাদের বাইরে কাজে যেতে না হয়। 
ডিস্ট্রিক্ট রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেলের (ডিআরডিসি) প্রোজেক্ট ডিরেক্টর অমলেন্দু সমাদ্দার বলেন, মডেল গ্রামগুলিতে যাতে বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া যায়, সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি। জেলায় ফি বছর প্রচুর আম নষ্ট হয়ে যায়। আমরা চেষ্টা করছি মডেল ভিলেজগুলিতে ফুড প্রসেসিং ইউনিট তৈরি করার। সেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে মহিলারা জ্যাম, জেলি প্রস্তুত করতে পারবেন। সেইসঙ্গে আমরা মডেল ভিলেজে জৈব চাষে জোর দিচ্ছি। যেখানে রাসায়নিক সার প্রয়োগ না করে ফসল ফলানো হবে। বিষমুক্ত ওই ফসল বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন বাসিন্দারা। এছাড়াও প্রাণীপালনে জোর দেওয়া হবে। সবমিলিয়ে আমরা চাইছি, পরিকাঠামো উন্নতির পাশাপাশি মডেল ভিলেজ প্রকল্পের মধ্যদিয়ে যাতে স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার উন্নয়ন ঘটে।
বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া মালদহে একদিকে যেমন বহু এলাকায় শিক্ষার অভাব রয়েছে, তেমনই গ্রামে সেভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বহু মানুষ ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে যেতে বাধ্য হন। সেইসঙ্গে জেলায় অনেক গ্রাম রয়েছে, যেখানে রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ পরিকাঠামোর অভাব যথেষ্টই। এই অবস্থার বদল ঘটাতে কেন্দ্রের ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রকল্পের আওতায় মালদহ জেলায় যেমন ২৯টি গ্রামকে বাছাই করা হয়েছে, তেমনই জেলায় মোট ৩৫৩টি পিছিয়ে পড়া গ্রামকে মডেল ভিলেজ করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই গ্রামগুলির বাছাই পর্ব শেষ। এখন কোন গ্রামে কী ধরনের পরিকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে তার সার্ভে চলছে। মন্ত্রী জোয়েল মুর্মু বলেন, পিছিয়ে পড়া এলাকার উন্নয়নে আমরা বদ্ধপরিকর। মডেল গ্রাম মালদহে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ