সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: এ যেন শেয়ার সূচক! ভোটমুখী বাংলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার বিনিয়োগের অঙ্ক বিজেপি নেতাদের মুখে মুখে লাফিয়েই বাড়ছে। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের হৃদপিণ্ড ডিএসপি। মানুষের রুজিরুটি থেকে আবেগ জড়িয়ে এই কারখানার সঙ্গে। সেটা বিজেপির পোড় খাওয়া নেতারা ভালোমতোই জানেন। ডিএসপির উন্নয়নের খবর সহজেই দুর্গাপুবাসীর মন জয় করবে। তাই এবার ভোটে ঠিক সেই তাসটাই খেলেছে তাঁরা। বিজেপি প্রার্থীদের প্রচারে ঘটা করে তুলে ধরা হচ্ছে ডিএসপির বিপুল বিনিয়োগের কথা। প্রথমে ১০ হাজার কোটি, ১২ হাজার কোটি বলা হলেও এখন বিজেপি নেতারা দাবি করছেন, ডিএসপিতে বিনিয়োগ হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তাঁদের এই দাবি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। শ্রমিক নেতা থেকে কর্তৃপক্ষের একাংশের মত, এমন কোনও প্রজেক্ট অনুমোদন হয়নি, যেখানে ডিএসপিতে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে!
দুর্গাপুর পশ্চিমে বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্ণণ ঘোড়ুই এখন নিবিড় প্রচারে ব্যস্ত। কখনও রাঁচি কলোনির মতো বস্তি এলাকা, কখনও ধাণ্ডাবাগ, বেনাচিতির মতো ঘন জনবসতি এলাকায় প্রচার করছেন। পুরো এলাকার অর্থনীতির বড় ভরসা ডিএসপি। প্রচারে বেরিয়ে ডিএসপি’তে বিনিয়োগের কোনও ‘লক্ষ্ণণরেখা’ই মানছেন লক্ষ্ণণ। বলছেন, ‘৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। দুর্গাপুরের স্থানীয় মানুষদের কাজ হবে। কাজের জন্য এলাকার মানুষকে আর বাইরে যেতে হবে না।’ ডিএসপি সূত্রে অবশ্য লক্ষ্ণণের দাবির সারবত্তা মেলেনি। আধিকারিকদের একাংশের দাবি, প্রাথমিক ভাবে ৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রবল সম্ভবনা রয়েছে। সেখানে রড ও বার মিল, নতুন ব্লাস্ট ফার্নেস হওয়া কথা রয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলিও বিজেপি প্রার্থীর দাবি শুনে তাজ্জব ডিএসপি ও এএসপির সিটু শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ডিএসপিতে বিনিয়োগের দাবি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা করে আসছি। কেউ আমাদের দাবি মেনে নেয়নি। পাঁচ বছর ধরে বিজেপি ডিএসপিতে বিনিয়োগের কথা বলে আসছে। এখনও পর্যন্ত কোনো প্রকল্প অনুমোদনের কাগজ আমাদের সামনে আসেনি।’ আইএনটিইউসি নেতা রজত দীক্ষিত বলেন, ‘বাউন ফিল্ড হিসাবে কয়েক হাজার কোটির বিনিয়োগের কথা শুনেছি। কোনো নথি আমাদের হাতে নেই। বিজেপি ভোট পাওয়ার জন্য বহু ভাঁওতা প্রতিশ্রুতি দেয়।’ পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘বিজেপি সরকার বাংলার জন্য কিছু দেয়নি, আমরা আশা করি না, ওরা বাংলায় ভালো কিছু করবে।’ দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি ইনচার্জ শ্রীদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘সিপিএম ও তৃণমূল বাংলার মানুষের ভালো দেখতে চায় না। কেন্দ্রীয় বাজেটে দুর্গাপুরকে শিল্পের কেন্দ্রস্থল বানানোর কথা বলা হয়েছে। ডিএসপিতে বিপুল বিনিয়োগ হবে।’ পরিমাণ কত? সেটা অবশ্য বলেননি।