Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোডাউন থেকে স্কুলে আসার মাঝে প্রতি বস্তায় ৩-৫ কেজি চাল উধাও, প্রতিবাদ বিজেপির, তদন্তে খড়গ্রাম ব্লক প্রশাসন

খড়গ্রাম ব্লকের স্কুলে মিড ডে মিলের চালের বস্তায় ৩-৫ কেজি কম। বিজেপির প্রতিবাদে তদন্ত শুরু। বিস্তারিত জানুন।

গোডাউন থেকে স্কুলে আসার মাঝে প্রতি বস্তায় ৩-৫ কেজি চাল উধাও, প্রতিবাদ বিজেপির, তদন্তে খড়গ্রাম ব্লক প্রশাসন
  • ২৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: খাদ্য সরবরাহ দপ্তরের ডিস্ট্রিবিউটরের গোডাউন থেকে স্কুলে পৌঁছায় মিড ডে মিলের চালের বস্তা। কিন্তু অভিযোগ, স্কুলে যে সমস্ত ৫০কেজির বস্তা পৌঁছাচ্ছে, তাতে দু’-তিন কেজি থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত চাল কম থাকছে। খড়গ্রাম ব্লকের বালিয়া পঞ্চায়েতে এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিজেপি কর্মীরা। শুক্রবার রাতে ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তদন্তের দাবি জানানো হয়। খড়গ্রাম ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

ওই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, শুক্রবার বালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ট্রাক্টরে করে মিড ডে মিলের চালের বস্তা নিয়ে আসা হয়েছে। সেখান থেকে দু’জন শ্রমিক মাথায় করে স্কুলঘরে চাল পৌঁছে দিচ্ছেন। কিন্তু, স্কুলে ঢোকার আগে বিজেপি কর্মীরা প্রতিটি বস্তার ওজন মেপে দেখছেন, ৫০ কেজির বদলে কোনো বস্তার ওজন ৪৫ কেজি ১৫০ গ্রাম, আবার কোনোটির ওজন ৪৭ কেজি। প্রতিটি বস্তারই ওজন কিছুটা কম। এরপর রায়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শেখপাড়া কান্দাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই ছবি দেখা যায়। বিজেপি কর্মীরা খড়গ্রাম ব্লক প্রশাসনের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ জানান। ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক সেখানে পৌঁছে তদন্তে নামেন। যে ট্রাক্টরে করে চাল নিয়ে আসা হয়েছিল, সেটিকে আটক করা হয়েছে।
বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন ঘোষ বলেন, কতদিন ধরে এমন কাণ্ড ঘটছে, কেউ জানেন না। এনিয়ে শিক্ষকদেরও কোনো অভিযোগ করতে দেখা যায়নি। পুরো বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকেও লিখিত আকারে জানানো হচ্ছে।
বালিয়ার বিজেপি কর্মী সৌরভ ঘোষ বলেন, প্রতিটি বস্তায় ওজন কম কেন হবে? এর পিছনে নিশ্চয়ই বড়ো কোনো চক্র কাজ করছে। ডিস্ট্রিবিউটরের গুদাম থেকে স্কুলে আসার পথেই কোথাও চাল সরানো হয়েছে।
বালিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান বেলি ঘোষ বলেন, শিশুদের খাবার নিয়ে যারা এসব করছে, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। প্রশাসনিক তদন্তে পঞ্চায়েত সাহায্য করবে।
সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটরের এক ম্যানেজার বলেন, স্কুলশিক্ষকদের উচিত, গুদাম থেকে চাল বের হওয়ার সময় ওজন করে দেখে নেওয়া। কিন্তু, ওই সময় স্কুলের একজন শিক্ষকও উপস্থিত থাকেন না।
বালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৌশিক দাস বলেন, আমরা কোনোদিন চাল ওজন করে দেখিনি এটা সত্যি। তবে এমন হচ্ছে, সেটাও কখনো বুঝতে পারিনি। অনেক ছাত্রছাত্রীর রান্না একসঙ্গে হয়। তাই কখনো চালের অভাব হয়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ