সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: স্বনির্ভর গোষ্ঠী পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাঁকুড়ায় ৩৪জন ডিস্ট্রিক্ট লেভেল ট্রেনার বা ডিএলটি-কে অন্য ব্লকে বদলি করল জেলা গ্রামোন্নয়ন শাখা। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিএলটিরা দীর্ঘদিন একই ব্লকে কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের একাংশের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাই ঘুঘুর বাসা ভাঙতেই তাঁদের অন্য ব্লকে বদলি করা হল বলে অনেকে মনে করছেন। প্রশাসনের ওই উদ্যোগকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা সাধুবাদ জানিয়েছেন। যদিও দপ্তরের আধিকারিকরা রুটিন বদলি বলে জানিয়েছেন।
জেলা গ্রামোন্নয়ন শাখার আধিকারিক দেবজিৎ বসু বলেন, ডিএলটিরা দীর্ঘদিন একই ব্লকে কাজ করছেন। সেই জন্য জেলার সমস্ত ডিএলটিকে পার্শ্ববর্তী ব্লকে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁদের নতুন ব্লকে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া জেলায় প্রায় ৬৪ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। গোষ্ঠী পরিচালনা ও মহিলাদের আর্থিক উদ্যোগ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ১০ বছর আগে প্রতিটি ব্লকে প্রশিক্ষক বা ডিএলটি নিযুক্ত করা হয়। বাঁকুড়ায় কোনও ব্লকে একজন এবং আবার কোনও ব্লকে দু’জন ডিএলটি রয়েছেন। সবমিলিয়ে জেলায় ২২টি ব্লকে মোট ৩৪জন ডিএলটি রয়েছেন। তাঁরা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ব্যাঙ্ক লেনদেন, লোন, আর্থিক উদ্যোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহায়তা করেন। পাশাপাশি স্কুলড্রেস, সহায়ক মূল্যে ধান কেনা সহ সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগিতা করেন। দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় কাজ করায় তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। গ্রাম পঞ্চায়েতে অবস্থিত সঙ্ঘ সমবায়ের নেত্রী এবং শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের একাংশের সঙ্গে যোগসাজশ করে নানা অনিয়মের অভিযোগে সরব হন বিভিন্ন এলাকার গোষ্ঠীর মহিলারা। এনিয়ে বিভিন্ন পঞ্চায়েতে তাঁরা প্রকাশ্যে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। তাই ঘুঘুর বাসা ভাঙতে ডিএলটিদের অন্য ব্লকে বদলি করা হয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।
বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের স্বনির্ভরতার জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন। বাড়তি রোজগারের জন্য স্কুলড্রেস তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছে। সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান কেনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পরিকাঠামোগত সহযোগিতা করা হচ্ছে। কিন্তু, তাতে অনিয়ম হলে বরদাস্ত করা হবে না।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের একাংশের বক্তব্য, পঞ্চায়েতে সঙ্ঘ সমবায়ের মাধ্যমে গোষ্ঠীর যাবতীয় কাজকর্ম হয়। কিন্তু, স্কুলড্রেস তৈরিতে ব্যাপক স্বজনপোষণ হচ্ছে। তাতে কোনও কোনও ডিএলটি প্রভাব খাটিয়ে সঙ্ঘের নেত্রীদের একাংশকে হাত করে আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে গোষ্ঠীর মহিলারা বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিবাদ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। উল্টে স্কুলড্রেস তৈরির কাজ থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।