সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: বাংলাদেশে আটকে থাকা এক মৎসজীবীর মৃত্যুর খবরে আতঙ্ক গ্রাস করেছে কাকদ্বীপের বহু পরিবারকে। বাকি ৩৩ জন মৎস্যজীবী বাংলাদেশ থেকে কবে ফিরবেন, তা নিয়ে চিন্তিত পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা বিভিন্ন দপ্তরে ছোটাছুটি শুরু করেছেন। তবে উদ্বেগ কাটছে না।
চলতি বছরের ১৪ জুলাই বাংলাদেশের উপকূল রক্ষী বাহিনী এফবি ঝড় ও এফবি মঙ্গলচণ্ডী নামে দুটি ভারতীয় ট্রলারকে আটক করেছিল। ট্রলার দুটিতে মোট ৩৪ জন মৎস্যজীবী ছিলেন। তাঁরা বর্তমান বাংলাদেশের জেলে রয়েছেন। সেখানেই এফবি মঙ্গলচণ্ডী ট্রলারের মৎস্যজীবী বাবুলের মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর কাকদ্বীপে পৌঁছতেই রাতের ঘুম উড়েছে বাকি ৩৩টি মৎস্যজীবী পরিবারের।
মঙ্গলচণ্ডী ট্রলারের মৎস্যজীবী প্রকাশ দাসের স্ত্রী বীণা দাস বলেন, ‘প্রায় চার মাস হয়ে গেল স্বামীর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। তিনি কেমন আছেন, তাও জানি না। শুনেছি ওখানে ঠিকমতো খেতে দেওয়া হয় না। এমনকি অসুস্থ হয়ে পড়লে, ওষুধও দেওয়া হয় না।’ কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ থেকে খবর এসেছে ওই ট্রলারের এক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে। এই খবর শোনার পর থেকেই দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। মহিলা বলেন, ‘স্বামী কবে বাড়িতে ফিরবেন, তা জানার জন্য প্রতিদিনই ট্রলারের মালিক ও মৎস্যজীবী সংগঠনের কাছে গিয়ে খোঁজ নিই। কিন্তু কেউ কোনও সঠিক খবর দিতে পারছে না। এখন কি করব বুঝে উঠতে পারছি না!’ অন্যদিকে, বাংলাদেশের জেলে মৃত বাবুল দাসের দেহ কবে দেশে ফিরবে, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের হাই কমিশনার বাবুলের দেহ বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু তিনদিন কেটে গেলেও খবর নেই। ছেলের দেহ কবে বাড়ি ফিরবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের লোকজন। মৎস্যজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে মৃতদেহ এদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘বাবুলের দেহ এদেশে ফিরিয়ে আনতে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে তদারকি করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করা যায়, শীঘ্রই তাঁর দেহ বাড়িতে ফিরে আসব।’