সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ভাগাড়-বিশুর আতঙ্ক ছড়িয়েছিল ২০১৮ সালে। দীর্ঘ সাত বছর সেই আতঙ্ক যে স্রেফ ছাইচাপা হয়ে ছিল, তার প্রমাণ মিলল বিজেপি সরকারের প্রথম অভিযানে। পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর—হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলিতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক দপ্তর। আজ, সোমবার শেষ দিন। গত ছ’দিনে গোটা রাজ্যে মোট তিন হাজার ১৭৯টির বেশি হোটেল ও দোকানে অভিযান চলে। তারমধ্যে দু’হাজার ৭৫৭টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অর্থাৎ, নিয়ম মানার তালিকায় মাত্র ৪২২টি সংস্থা। অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির অভিযোগে ৪৪টি’র বেশি হোটেল ও দোকানে নির্দিষ্ট কিছু খাবার বিক্রিতে নিষেধাঞ্জা জারি করা হয়েছে। ১৬টিরও বেশি দোকান বা রেস্টুরেন্টের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ৩৩টি দোকান সম্পুর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিউরে ওঠা এই তথ্য প্রমাণ করে, ভাগাড়ের পচা মাংস কলকাতা সহ আশপাশের জেলাগুলিতে সরবরাহের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপ নেয়নি পূর্বতন তৃণমূল সরকার। ২০১৮ সালের ওই ঘটনায় সোনারপুরের মাছ ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ ঘোড়ই ওরফে বিশু সহ বহু রথী-মহারথী গ্রেপ্তার হয়েছিল। তখন ‘ভাগাড়-বিশু’ শব্ধবন্ধে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা রাজ্যে। কিন্তু, হোটেল-রেস্তোরাঁগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর নিয়ে প্রশাসনিক উদাসীনতা চরমে ছিল বলে অভিযোগ। সেই ভুল আর করতে চাইছে না বর্তমান সরকার। এবার থেকে নিয়মিত অভিযান চলবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা।
রবিবার এক আধিকারিক বলেন, বেশির ভাগ দোকান নিম্নমানের শস ব্যবহার করছে। বিরিয়ানিতে যে রং ব্যবহার করা হচ্ছে তা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। অনেক মিষ্টির দোকান নিম্নমানের পনির ও ছানা বিক্রি করে আসছে। মিষ্টির রংও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। সিংহভাগ রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরগুলির পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর। ফ্রিজে রাখা দীর্ঘদিনের মাংস বা অন্যান্য সামগ্রী মজুত থাকছে। ফলে, মাংসে ব্যাকটেরিয়া জমছে। কোথাও সেই মাংস পচে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে। সেগুলিই বাড়তি মুনাফার লোভে রান্না করে খাওয়ানো হচ্ছে ক্রেতাদের। এরকম বহু দোকান মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। পরে আবার অভিযান হবে। সঠিকভাবে নির্দেশ মেনে না চললে আরও অনেক দোকানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এবার থেকে বছরভর হোটেল, রেস্তোরাঁ, মিষ্টির দোকান সহ স্ট্রিট ফুড স্টলগুলিতে খাবারের মান যাচাই করা হবে। বিগত সরকারের আমলে ফুড সেফটি দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দিষ্ট সময় ছাড়া দেখা যেত না। এবার তাঁরাই সক্রিয়। দোকানে দোকানে ঘুরবেন। এখন খাবারের মান যাচাইয়ে নমুনা কলকাতার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। আগামীদিনে দক্ষিণবঙ্গে তৈরি হতে চলেছে ল্যাবরেটরি। তাতে দ্রুত রিপোর্ট মিলবে। আধিকারিকদের দাবি, অনেক নামজাদা হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকান স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ওই দোকান গুলিতে ক্রেতারা বিশ্বাস করে খাবার কেনেন। দোকান মালিকরা তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। খাবার বিক্রি করতে অকারণ রাসায়নিক মেশাচ্ছে। অনেক দোকান মালিক মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যাকেটজাত খাবারও বিক্রি করছে। অভিযানের খবরে বহু দোকান মালিক কর্মীদের মুখে মাস্ক এবং টুপি পরিয়ে কাজ করাচ্ছিলেন।