Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রেশনের ৩২ হাজার কেজি চাল ও সাড়ে ৭ হাজার কেজি আটা বাজেয়াপ্ত, গ্রেপ্তার

হুগলিতে আবারও বিপুল পরিমাণ রেশন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হল

রেশনের ৩২ হাজার কেজি চাল ও সাড়ে ৭ হাজার কেজি আটা বাজেয়াপ্ত, গ্রেপ্তার
  • ১৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে আবারও বিপুল পরিমাণ রেশন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত হল। চণ্ডীতলা থানার একটি গুদামে অবৈধভাবে ওই সামগ্রী মজুত রাখা হয়েছিল খোলা বাজারে বিক্রির জন্য। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিস ও জেলা এনফোর্সমেন্ট বিভাগ যৌথভাবে সেখানে হানা দেয়। ঘটনাস্থল থেকে ৩২ হাজার কেজি চাল ও সাড়ে সাত হাজার কেজি আটা পাওয়া গিয়েছে। শুক্রবার সকালে চণ্ডীতলার জঙ্গলপাড়া কদমতলা এলাকার ওই গুদামে পুলিসের অভিযানে একটি লরিও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। চাল ও আটা মজুত রাখার স্বপক্ষে কোনও যুক্তি গুদাম মালিক দিতে পারেননি। তার জেরে অনিল গরাঙ্গ নামে গুদাম মালিককে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে।

Advertisement

এদিন পুলিস রেশন সামগ্রী পাচারের সময়ই গুদামে হানা দেয়। জানা গিয়েছে, ষোলো চাকার লরিতে করে যাবতীয় রেশনের পণ্য মজুত করা হচ্ছিল। গাড়ির চালক ও সহকারীকে পুলিস আটক করেছে। ঘটনাচক্রে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ রেশন সামগ্রী ডানকুনি থেকেও বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। ফলে, চণ্ডীতলা ও ডানকুনিজুড়েই রেশন সামগ্রী খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে মুনাফার চক্র তৈরি নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। হুগলি গ্রামীণ পুলিসের কর্তারা এদিন জানিয়েছেন, ওই বিষয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে। গুদাম মালিককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রেশন সামগ্রী বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা খুবই অনভিপ্রেত। সাধারণ মানুষের খাবার কেড়ে তা কালোবাজারি করার ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ওই বিষয়ে পুলিসের তরফে কঠোর থেকে কঠোরতম পদক্ষেপ করা হবে। অভিযুক্ত গুদাম মালিক এদিন সংবাদ মাধ্যমে কোনও বিবৃতি দিতে চাননি। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রেশন সামগ্রী খোলা বাজারে বিক্রির জন্য মজুত করতে অনেকগুলি স্তর পেরতে হয়। সরকারিভাবে রেশন সামগ্রী অনুমোদনের পরে তা জেলাভিত্তিক কিছু নির্বাচিত স্থান থেকে সরবরাহ করা হয়। সেখান থেকে সমস্ত রেশন দোকানে তা পৌঁছে যায়। ফলে গোটা সরবরাহ ব্যবস্থাকেই তদন্তের আওতায় আনতে হবে। ঠিক কোন স্তর থেকে ওই বিপুল রেশন সামগ্রী খোলা বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন। হুগলি জেলার অনেক জায়গাতেই রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে সঠিক সময়ে পণ্য না দেওয়ার অভিযোগ অনেক সময় শোনা যায়। ফলে, বিরাট অংশের রেশন দোকানের সঙ্গে কারবারিদের যোগ আছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিস কর্তা বলেন, ওই সমস্ত তথ্যের জন্যই গুদাম মালিককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, রহস্যের সমাধান হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ