নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সামনেই দোল উৎসবের ছুটি। সেই ছুটির সঙ্গে উইকেন্ড জুড়ে বেড়াতে যাওয়ার জন্য অসংখ্য পযর্টক হোটেল বুকিং করে ফেলেছেন। কেউ দার্জিলিং, কেউ পুরী, কেউ আবার মন্দামণি। বেশিরভাগই অনলাইন বুকিং। কিউআরকোডে টাকা পাঠিয়ে কনফার্ম করছেন ওয়েবসাইটে দেওয়া মোবাইল নম্বরে ফোন করেই। ঠিক সেইসময় একই নামী হোটেল কোম্পানির নামে ৩১টি ভুয়ো ওয়েবসাইট খোলার অভিযোগ উঠল প্রতারকদের বিরুদ্ধে! সেই ওয়েবসাইটে ব্যবহার করা হয়েছে পৃথক ৩১টি মোবাইল নম্বর! সেই ভুয়ো ওয়েবসাইটের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়েছেন পর্যটকরা। এই ব্যাপারে ওই হোটেল কর্তৃপক্ষ সল্টলেকে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
কোনো নামী হোটেলের নামে ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়।
কিন্তু, একই কোম্পানির হোটেলের নামে ৩১টি ভুয়ো ওয়েবসাইট বিরল। আসল ওয়েবসাইটের মতোই সামান্য কিছু রদবদল করে প্রতারকরা ওই ধরনের ওয়েবসাইট খুলেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা ভুয়ো ওয়েবসাইট খোলার পর গুগলে হোটেল বুকিংয়ের বিজ্ঞাপনও দিচ্ছে। তা থেকে অনেকেই ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে অফার দেখছে। তারপর হোটেল বুকিং করে ফেলছে। পরে জানা যাচ্ছে, তাঁদের নামে কোনো হোটেল বুকিংই হয়নি! টাকা গিয়েছে প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে। এতে হোটেলেরও বদনাম হচ্ছে।যে হোটেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছে, তাদের একাধিক পর্যটন কেন্দ্রে হোটেল রয়েছে। নামী এবং পরিচিত। সার্ভিসও ভালো। প্রতিবছর সেই টানেই বহু মানুষ তাদের হোটেলে যান। সেই সুযোগকেই হাতিয়ার করেছে প্রতারকরা। যে ৩১টি ভুয়ো ওয়েবসাইট চিহ্নিত করা হয়েছে, হোটেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগপত্রে প্রতিটির ইউআরএল নম্বর দিয়েছে। ওইসঙ্গে প্রতারকদের ৩১টি মোবাইল নম্বরও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত ইউআরএলগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্টের সূত্র ধরে তদন্ত চলছে। মোবাইল নম্বরগুলিও যাচাই করা হচ্ছে। এই ওয়েবসাইটের ডোমেইনগুলির নেপথ্যে কারা রয়েছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং ভুয়ো ওয়েবসাইটগুলি ব্লক ও অপসারণেরও পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।