সংবাদদাতা, কান্দি: শুধু ঝিমিয়ে পড়া স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে উজ্জ্বীবিত করা নয়। মহিলাদের আত্মনির্ভর করে তুলতে আগামী ৩০ দিনে ৩০০টি স্বনির্ভরগোষ্ঠী তৈরি করবে কান্দি ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সমিতি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এনিয়ে কান্দির কুমারসন্দ পঞ্চায়েত এলাকার মহিলাদের নিয়ে একটি সচেতনতা সভা করা হয়। রামেশ্বরপুর গ্রামের স্কুল মোড়ের ওই সভায় হাজির হয়েছিলেন কয়েকশো মহিলা।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কুমারসন্দ পঞ্চায়েত এলাকায় মোট ৮৭টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। যেগুলির বেশিরভাগই ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে চলছে। এছাড়াও কয়েকটি সমবায় গোষ্ঠী ও একটি মহাসঙ্ঘ সমবায় স্বনির্ভর গোষ্ঠী রয়েছে। যদিও বিগত দিনে গোষ্ঠীগুলির কাজকর্মে এলাকায় তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে দেখা যায়নি। তাই ব্লক প্রশাসনের কাছে এই সমস্যা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তা দূর করতেই এদিন কান্দি ব্লক প্রশাসন ও পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে ওই সচেতনতা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
এদিনের সভায় হাজির ছিলেন কান্দির বিডিও শ্রীকুমার ভট্টাচার্য, উইমেন ডেভেলপমেন্ট অফিসার প্রভা মজুমদার, কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্থপ্রতিম সরকার, কুমারসন্দ পঞ্চায়েত প্রধান নুরনিহার বিবি, মেন্টর অসিতেন্দু ঘোষ প্রমুখ। বিডিও জানান, রাজ্য সরকারের নির্দেশ মতো আমরা প্রতিটি গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করে মহিলাদের আত্মনির্ভর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেইমতো এদিন স্থানীয় মহিলাদের নিয়ে সচেতনতা সভা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এদিন যে গ্রামে ওই সভা করা হয়েছিল সেখানে প্রায় ৫০০০ জন বসবাস করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি ছিল না। তবে এদিনের সভাতেই সেখানে প্রায় ৫০টি গোষ্ঠী তৈরি করা হয়। কান্দি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্থপ্রতিম সরকার বলেন, আমাদের লক্ষ্য আগামী ৩০দিনে এই পঞ্চায়েত এলাকায় ৩০০টি গোষ্ঠী তৈরি করার। গোষ্ঠীর সদস্যদের আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে আত্মনির্ভর করার জন্য প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হবে। কয়েকমাসের মধ্যেই এই পঞ্চায়েত এলাকার প্রতিটি গ্রামে গোষ্ঠীর সদস্যরা যাতে বিভিন্ন সামগ্রী উৎপাদন করে আত্মনির্ভর হতে পারবেন। এদিন মহিলাদের কাছে আমরা সেই অঙ্গীকার করেছি। এবিষয়ে স্থানীয় কুমারসন্দ মহাসঙ্ঘের নেত্রী সেবিনা বিবি বলেন, এদিনের সচেতনতা সভায় যেভাবে মহিলারা হাজির হয়ে উৎসাহ দেখিয়েছেন। তাঁতে তাঁদের আত্মনির্ভর হতে শুধু সময়ের অপেক্ষা। - নিজস্ব চিত্র