Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৩০ শতাংশ টাকা পড়ে রয়েছে জেলায় জেলায়, ক্ষুব্ধ নবান্ন

বাকি আর মাত্র দেড় মাস। মার্চ মাসের সঙ্গেই শেষ হয়ে যাচ্ছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মেয়াদ। কিন্তু এখনো গত পাঁচ বছর ধরে বরাদ্দ হওয়া মোট অর্থের ৩০ শতাংশ খরচ হয়নি জেলায় জেলায়।

পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ৩০ শতাংশ টাকা পড়ে রয়েছে জেলায় জেলায়, ক্ষুব্ধ নবান্ন
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাকি আর মাত্র দেড় মাস। মার্চ মাসের সঙ্গেই শেষ হয়ে যাচ্ছে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মেয়াদ। কিন্তু এখনো গত পাঁচ বছর ধরে বরাদ্দ হওয়া মোট অর্থের ৩০ শতাংশ খরচ হয়নি জেলায় জেলায়। রাজ্যের এমন ছ’টি জেলা চিহ্নিত হয়েছে যেখানে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ—তিন স্তরেই বরাদ্দ অর্থ খরচের হার তলানিতে। বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ নবান্ন। তবে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, চলতি অর্থবর্ষের শেষ চার মাস ধরে চলছে এসআইআর। এই কাজের জন্য অধিকাংশ আধিকারিক-কর্মীকে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। অথচ বৃষ্টিহীন এই সময়টাতেই রাস্তাঘাট, নিকাশির মতো পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা হয়। কিন্তু এসআইআর সংক্রান্ত ব্যস্ততার কারণে উন্নয়নের কাজগুলিতে আগের মতো গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা খরচ করা যায়নি। 

Advertisement

সম্প্রতি পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের শেষ কিস্তি বাবদ বাংলাকে ১,৭০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে কেন্দ্র। সেই টাকা শীঘ্রই পৌঁছে যাবে গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদগুলির কাছে। দেখা যাচ্ছে, জলপাইগুড়ি, পুরুলিয়া, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় টাকা খরচের হার ৬৩.৯৭ থেকে ৬৯.১২ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। এই আটটি বাদ দিলে বাকি জেলাগুলিতে খরচ হয়েছে ৭২ থেকে ৮২ শতাংশ। কোনো জেলাই ৮৫ শতাংশ অর্থ খরচের গণ্ডি পেরোতে পারেনি এখনো। 
এই পরিস্থিতিতে জেলাভিত্তিক পর্যালোচনার পাশাপাশি ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েতেগুলি কী অবস্থায় রয়েছে, তাও রাজ্যের তরফে খতিয়ে দেখা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, দার্জিলিং, বীরভূম, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তিনটি স্তরেই খরচের হার রাজ্যের গড়ের তুলনায় কম। প্রত্যেক জেলা পরিষদ পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ বাবদ বছরে গড়ে ৩০ কোটি টাকা পেয়ে থাকে। পঞ্চায়েত সমিতি এক থেকে দেড় কোটি। আর একটি গ্রাম পঞ্চায়েত ৭০ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা পায়। প্রশাসনের রিপোর্ট বলছে, জেলা পরিষদ স্তরে গড়ে খরচ হয়েছে ৫৫.১৫ শতাংশ টাকা। পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষেত্রে ৭০.১৫ শতাংশ এবং গ্রাম পঞ্চায়েতে ৭৪.৪৫ শতাংশ টাকা। ফারাক্কা, কুলপি, সাগরদিঘি, বহরমপুর, কালচিনি, রায়গঞ্জ, পুরাতন মালদহের মতো একাধিক পঞ্চায়েত সমিতি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আশানুরূপ খরচ করতে না পারায় রাজ্যের রিপোর্টে তাদের নামের পাশে লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৫৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতেকেও লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবিষয়ে শীঘ্রই বৈঠক ডেকে দ্রুত প্রকল্প রূপায়ণের নির্দেশ দেওয়া হতে পরে বলে সূত্রের খবর।

সম্পর্কিত সংবাদ