সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ঘটা করে সংসদে বাজেট বরাদ্দের বড় অঙ্ক পেশ করা হলেও আদতে পরে নিঃশব্দে তা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার সেই কম অঙ্কের অর্থও ঠিক মতো খরচই হচ্ছে না। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে এমনটাই উঠে এসেছে। ফলে কৃষকদের জন্য নিবেদিত প্রাণ বলে প্রচারের ঢাক পেটানো হলেও আদতে ‘মাঠ থেকে মার্কেট’ পরিকাঠামো উন্নয়নে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছুই করেনি মোদি সরকার। প্রকল্প রূপায়ণ হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই সময় লাগছে ১৮-৩০ মাস। মানে প্রকল্প রূপায়ণে মোদির আঠেরো মাসে বছর!
কৃষকের উৎপন্ন ফসল যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য কোল্ড চেইন তৈরি থেকে মেগা ফুড পার্ক সহ মোট ন’টি কর্মসূচি রয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্পদ যোজনায়।’ আধুনিক পরিকাঠামো তৈরিই যার অন্যতম লক্ষ্য। টম্যাটোর মতো যেসব ফসল সহজে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তার থেকে আচার তৈরি সহ খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে জোর দিয়ে কৃষকদের উপার্জন বাড়ানোই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। সঙ্গে গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থান। কিন্তু এই প্রকল্পের যা অগ্রগতি তাতে কৃষকের উপকার হওয়ার বিষয়টি একপ্রকার খাতায় কলমেই রয়ে যাচ্ছে। ২০১৭ সালে এই প্রকল্প শুরু হয়। ১ হাজার ৬১১টি প্রকল্প অনুমোদিত হলেও হয়েছে ১ হাজার ৮৭টি। প্রকল্পর গতি শ্লথ হওয়ার অন্যতম কারণ, কাগজপত্র ইত্যাদি পরীক্ষার জন্য সময়ই লাগে দেড় থেকে আড়াই বছর।
তার ওপর অর্থ বরাদ্দর অঙ্ক পরিবর্তন। মন্ত্রকের রিপোর্টেই দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্পদ যোজনায় বছর বছর ঢাক পিটিয়ে যা বরাদ্দ ঘোষণা হচ্ছে, তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ঘোষণা হয়েছিল ৯০০ কোটি টাকা। পরে (রিভাইজড এস্টিমেট) তা কমিয়ে করা হয় ৬৭৩ কোটি। সেটিও পুরো খরচ করেনি মোদি সরকার। খরচ হয়েছে ১১১ কোটি টাকা। একইভাবে তার পরের বছরও বরাদ্দ ঘোষণা হয়েছিল ৯২৩ কোটি। পরে কমিয়ে হয় ৭৪৫ কোটি। খরচ হয়েছে ৬৬৬ কোটি।
সদ্য সমাপ্ত গত আর্থিক বছরে (২০২৪-২৫) বরাদ্দ হয়েছিল ৭২৯ কোটি টাকা। পরে কমিয়ে করা হয় ৬৩০ কোটি। কিন্তু তারপরেও খরচ হয়েছে মাত্র ৩২৫ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্পদ যোজনার অন্তর্গত মেগা ফুড পার্কের ক্ষেত্রে গত আর্থিক বছরে ৩২ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও খরচ হয়েছে মাত্র ৮ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা। এবারও ৮০ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বরাদ্দে কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মল সীতারামন। কিন্তু কয়েক মাস পরেই তা নিঃশব্দে কমিয়ে দেওয়া হবে বলেই আশঙ্কা।