


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনে সিটের পথ ধরেই যাবতীয় সূত্র জুড়তে শুরু করল সিবিআই। পাঁচ অভিযুক্তের গ্রেপ্তারির পরও প্রশ্ন রয়েছে বেশ কিছু। কত টাকার ডিল হয়েছিল? নেপথ্যে কে? কীভাবে পালিয়েছিল শার্প শ্যুটাররা? ধৃতদের জেরা করে সেই জট ছাড়ানো শুরু হয়েছে। মোট কত টাকার ডিল, সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হতে না পারলেও সিবিআই জানতে পেরেছে, কন্ট্রাক্ট কিলারের কাছে অগ্রিম হিসাবেই পৌঁছে গিয়েছিল ৩০ লক্ষ টাকা। বাকি পেমেন্ট কাজ হাসিলের পর। সেই ‘কাজ’ অবশ্য সেরেও ফেলেছিল দুষ্কৃতীরা। আর তারপর পালানোর ক্ষেত্রেও গাড়ি ব্যবহার করে কোনো ঝুঁকি রাখতে চায়নি তারা। তাই পালানোর সময় হাওড়া স্টেশন যাওয়ার জন্য ভিকি মৌর্য ও মায়াঙ্ক মিশ্রা ভাড়া করেছিল অ্যাপ বাইক। সেখান থেকে ট্রেন ধরে তারা পালায় ধানবাদ। তারপর গাড়িতে বক্সার। তবে এই ঘটনায় খোঁজ চলছে আরও একটি গাড়ির। বুধবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির টিম ঘটনাস্থলে যায়। থ্রি-ডি স্ক্যানারের মাধ্যমে ঘটনাস্থলের সমস্ত তথ্য নেওয়া হয়।
তদন্তকারীরা নিশ্চিত, বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা শার্প শ্যুটারদের দল অপারেশনের পর একসঙ্গে রাজ্য ছাড়েনি। ঝাড়খণ্ড রেজিস্ট্রেশনের নিসান ছাড়াও ছাড়াও রাজ্যের নম্বর প্লেট লাগানো আর একটি গাড়ি ছিল। সিসি ক্যামেরায় ওই গাড়ির ছবি ধরা পড়েছে। কিন্তু তাতে থাকা নম্বর প্লেটটি জাল। গাড়ির মডেল ধরে তথ্য পেতে বিভিন্ন জেলার আরটিও ও ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তদন্তকারীরা। ভিকি ও মায়াঙ্ক জেরায় জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছিল রাজ সিং। তার মা যদিও দাবি করছেন, ঘটনার দিন ছেলে শপিং মলে গিয়ে পোশাক কেনে। ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ কবেকার, জানার জন্য সেটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ধৃত মায়াঙ্ক ও ভিকি জেরায় এজেন্সির কাছে দাবি করেছে, চন্দ্রনাথকে খুনের পর তারা আলাদাভাবে বাইকে চেপে পালিয়ে যায়। দোলতলা মোড়ে নেমে মায়াঙ্কের ফোন থেকে আলাদা আলাদা দু’টি অ্যাপ বাইক বুক করা হয়। তাতে চড়েই হাওড়া স্টেশনে আসে দু’জন। ধানবাদের টিকিট কেটে তারা জেনারেল বগিতে ওঠে। ট্রেনে বসেই মায়াঙ্ক ধানবাদের এক ব্যবসায়ীকে ফোন করে গাড়ির ব্যবস্থা করতে বলে। স্টেশনে গাড়ি হাজির ছিল। তাতেই তারা চলে যায় বক্সার। আর তাদের দাবি, রাজ আলাদাভাবে মধ্যমগ্রাম থেকেই গাড়ি নিয়ে পালায় উত্তরপ্রদেশের বালিয়ায়। ভিকি ও মায়াঙ্ক যে হাওড়া স্টেশনে এসেছিল, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে তার প্রমাণ মিলেছে। একইসঙ্গে মায়াঙ্ক যে সংস্থার অ্যাপ বুক করেছিল, তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তদন্তকারীরা। ওই বাইক চালকের বক্তব্য রেকর্ড করা হবে। জানা যাচ্ছে, এক্ষেত্রে মায়াঙ্ক অন্য সিম ব্যবহার করে ওই বাইক বুক করে। তিনজনই জেরায় জানিয়েছে, অপারেশনের আগে বক্সারে মিলিত হয়েছিল সকলে। অগ্রিম পেমেন্ট ৩০ লক্ষ টাকা হওয়ায় তদন্তকারীরা মনে করছেন, চন্দ্রনাথ খুনে কোটি টাকার উপর খরচ হয়েছে।