নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাইকোর্টের বাইরে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করলেন তিন মহিলা। মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় কোর্ট পাড়ায়। কেন ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হল, এই চিৎকার করতে করতে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিস এসে সকলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এসএসকেএমে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর হেয়ার স্ট্রিট থানায় নিয়ে এসে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিস জানতে পারে, স্থানীয় সমবায় সমিতির ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ পড়ায় পরিকল্পনা করে সকলের দৃষ্টি টানতেই এই এলাকায় ঘটনা ঘটিয়েছেন। সকলের বয়ান রেকর্ড করে পরে ছাড়া হয়।
পুলিস সূত্রে জানা যাচ্ছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানা এলাকার পৈলানের বাসিন্দা তিন মহিলা মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন। সকাল ১০টা নাগাদ তাঁরা সকলের নজর এড়িয়ে হাইকোর্টের ই-গেটের সামনে জড়ো হন। তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। চিৎকার করে বলতে থাকেন, ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। সকলেই ধরে নেন, ২০০২ সালে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। এরমধ্যেই একজন মহিলা সঙ্গে নিয়ে আসা কেরোসিন গায়ে ঢেলে নেন। তাঁকে জড়িয়ে ধরেন অন্য দুই মহিলা। দেশলাই কাঠি জ্বালানোর চেষ্টা করা মাত্রই তাঁকে নিরস্ত করেন পুলিস কর্মীরা। সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় আসে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিস। তিনজনকেই উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরমধ্যে আদালত চত্বরে রটে যায়, আসন্ন এসআইআরের কারণে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন তিনজন। এমনকী তাঁদের কথা শুনে পুলিসও প্রাথমিকভাবে মনে করছিল, ২০০২ সালে প্রকাশিত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াতেই তাঁরা আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনজনকেই নিয়ে আসা হয় হেয়ার স্ট্রিট থানায়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গোটা বিষয়টি স্পষ্ট হয় পুলিসের কাছে। জানা যায়, তাঁরা বিষ্ণুপুরের আমগাছিয়া সৃষ্টি সঙ্ঘ প্রাথমিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সক্রিয় সদস্য। সেখানে তাঁদের বিনিয়োগও রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ২০১৭ তে সমবায় সমিতি তৈরি হয়। ২০২৫ সালে নির্বাচন হয় ওই সমবায় সমিতির। সমবায় সমিতির প্রকাশিত ভোটার তালিকা দেখে জানতে পারেন তিনজনেই নাম বাদ গিয়েছে। তাঁরা বুঝে যান, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। এমনকী প্রার্থী হতে পারছেন না। হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, পুনরায় ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তিন মহিলার দাবি, সমবায় সমিতি কোনও চেষ্টাউ করেনি। ফলে তাঁরা ভোটদান ও প্রার্থী কোনওটাই হতে পারেনি। এমনকী ওই সমবায় সমিতি ভালো পরিমাণ সুদ দেবে বলে টাকা সংগ্রহ করেছে তাঁদের কাছ থেকে। কিন্তু সেই টাকা ফেরত দেয়নি। সেই কারণে পরিকল্পনা করেন হাইকোর্টের সামনে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে সকলের নজর কাড়া যাবে। সে কারণেই ঘটিয়েছেন এই ঘটনা। -নিজস্ব চিত্র